পর্দায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাজ, পোশাক, মেকআপ কিংবা চুলের স্টাইল দর্শকের নজর কাড়ে। কিন্তু সেই চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নেপথ্যে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কথা অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। টালিগঞ্জের ড্রেসার এবং মেকআপ আর্টিস্টদের সেই নেপথ্য কাজের গুরুত্বই তুলে ধরলেন অভিনেতা চন্দ্রনীভ চট্টোপাধ্যায়।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন চন্দ্রনীভ। ছবিতে তাঁকে দেখে প্রথমে চিনতে বেশ খানিকটা সময় লাগতে পারে। ফুলছাপ শাড়ি, আলগা খোঁপা, হাতে শাঁখা-পলা, কপালে টিপ এবং সিঁথিতে সিঁদুর—একেবারে বাঙালি গৃহবধূর সাজে দেখা গিয়েছে অভিনেতাকে। কোনও চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁর এই নারীবেশ। তবে নিজের সাজের পাশাপাশি এই লুক তৈরির নেপথ্যের শিল্পীদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
চন্দ্রনীভের বক্তব্য, অভিনয় কোনও চরিত্রকে প্রাণ দিলেও তার সঠিক লুক চরিত্রটিকে দর্শকের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। কোনও চরিত্র যদি গ্রামের গৃহবধূ হয়, তাহলে তাঁর শাড়ি পরার ধরন থেকে শুরু করে খোঁপা, সিঁদুরের রেখা কিংবা গয়না—প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আবার নির্দিষ্ট কোনও সময়কালকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হলে সেই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পোশাক, চুল এবং মেকআপ ঠিক করতে হয়।
তাঁর মতে, এই কাজ শুধুমাত্র কাউকে সাজিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন চরিত্র এবং সময়কাল বোঝার ক্ষমতা। পাশাপাশি শুটিংয়ের ব্যস্ত পরিবেশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সময় এবং নানা ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেও এই শিল্পীরাই অভিনেতার পর্দার লুক তৈরি করেন।
বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বাইরে এখনও কাজ করার সুযোগ হয়নি চন্দ্রনীভের। তবে ভবিষ্যতে অন্য ভাষার ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। অন্য ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে টালিগঞ্জের কাজের তুলনা করার ক্ষেত্রে অবশ্য তিনি সতর্ক। তাঁর মতে, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে বাজেট, সময়, পরিকাঠামো, সরঞ্জাম এবং ক্রু-সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছাড়া তুলনা করা ঠিক নয়।
তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিত—যে কোনও ইন্ডাস্ট্রিতেই একটি চরিত্রকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নেপথ্যের শিল্পীদের অবদান অনস্বীকার্য। টালিগঞ্জেও সেই দক্ষতার কোনও অভাব নেই। বরং নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের কাজ নিখুঁতভাবে করে যাওয়ার ক্ষমতাই এই শিল্পীদের অন্যতম বড় শক্তি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.