অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের তীব্র জবাব দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রকল্পে অনিয়ম এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা। পাল্টা নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। এমনকি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘ফেসবুকেই থাকুন আপনি বিকেলবেলায়। আপনাকে রাস্তায় আর বেরোতে হবে না। রাস্তায় আপনি যাতে না বেরোতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব।’’
সোমবার ফেসবুক লাইভে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করেনি। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভান্ডার ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনা চালানোর ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
এই অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য কোনও উপভোক্তাই বঞ্চিত হবেন না। তাঁর অভিযোগ, মমতা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করছেন। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন, হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৮৬ শতাংশ হিন্দু বসবাস করলেও আবাস যোজনায় মাত্র দু’জন হিন্দু উপভোক্তা বাড়ি পেয়েছিলেন। শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘‘অ্যাপিজমেন্ট (তোষণ)? গোটা রাজ্যের হিসেব আমার কাছে আছে। কী রকম তোষণ করেছেন, সব হিসেব আছে।’’
ধর্মের ভিত্তিতে উপভোক্তা বাছাইয়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘বাছাবাছি উনি করতেন। আমি করি না। ধর্ম দেখে উনি বাছাবাছি করতেন। আমি করি না।’’
এদিন বারুইপুরের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং হালিশহরে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামীর জেলে মৃত্যুর প্রসঙ্গও টেনে মমতাকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হালিশহরে গিয়ে মমতা বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনি বারুইপুর নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন। গোল খেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হালিশহর নিয়েও চেষ্টা করেছিলেন, সেখানেও ডবল গোল খেয়েছেন। কথা কম বলুন। বিশ্রাম করুন। অনেক বয়স হয়েছে।’’
অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনায় কতজন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে, তারও হিসেব দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৭২ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম উপভোক্তা রয়েছেন বলেও জানান তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, যোগ্যতার ভিত্তিতেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে উপভোক্তা হিন্দু না মুসলিম, বিজেপি না তৃণমূল—তা দেখা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, ‘‘যাঁরা যোগ্য, তাঁরা হিন্দু না মুসলিম, বিজেপি না তৃণমূল, দেখা হয় না। সবাই টাকা পেয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মানুষ শুধুমাত্র ভাতার প্রতিশ্রুতির জন্য তাঁদের ভোট দেননি। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সেই সম্পত্তি নিলামে তুলে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে মমতা-শুভেন্দুর এই রাজনৈতিক তরজা তাই আরও তীব্র হল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.