ড্রেস নিয়ে প্রবল চর্চা, বিতর্কের মাঝেই কৃতির স্পষ্ট বার্তা: কী বললেন অভিনেত্রী?

রাখিবন্ধন উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি বিজ্ঞাপন ঘিরে তুমুল বিতর্ক। গয়না প্রস্তুতকারী এক সংস্থার রাখিবন্ধন স্পেশাল বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রী কৃতি স্যাননের পোশাক নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নেটমহলে একাংশের প্রশ্ন, ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার মতো ঐতিহ্যবাহী মুহূর্তে কেন এমন পোশাক বেছে নেওয়া হল? বিতর্কের মাঝেই এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী।

বিজ্ঞাপনে কৃতিকে দেখা গিয়েছে অফ-হোয়াইট রঙের একটি ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে। ব্রালেট-ধাঁচের ব্লাউজের সঙ্গে ছিল কেপ এবং ড্রেপ করা স্কার্ট। বিজ্ঞাপনের সেই পোশাক নিয়েই শুরু হয় সমালোচনা। কারও মতে, রাখিবন্ধনের মতো উৎসবের আবহের সঙ্গে পোশাকটি মানানসই নয়। আবার অন্য একটি অংশের বক্তব্য, কোনও নারীর পোশাক দেখে তাঁর সংস্কৃতি, মূল্যবোধ কিংবা ব্যক্তিত্ব বিচার করা উচিত নয়।

বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়ে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানৌতের মন্তব্যের পর। কৃতির নাম না করেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত ধরনের পোশাকের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও ভাইকে রাখি বাঁধার সময়ে এমন পোশাক কেন বেছে নেওয়া হল। তাঁর মতে, বিজ্ঞাপনটি ‘ইচ্ছাকৃত ভাবে অস্বস্তিকর’ বলে মনে হয়েছে। এর মধ্যেই বিতর্কে রাজনৈতিক রংও লাগে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কৃতির পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, একজন মহিলা কী পরবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য জানান কৃতি স্যাননও। অভিনেত্রীর বক্তব্য, কোনও উৎসবের আসল সৌন্দর্য পোশাকে নয়, বরং সেই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ ও ঐতিহ্যের মধ্যে। তাঁর মতে, একজন নারীর সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ কখনও তাঁর পোশাক দিয়ে মাপা যায় না।

কৃতির প্রশ্ন, ‘নারীদের কী পরতে হবে, তা বলা আমরা কবে বন্ধ করব?’ তাঁর বক্তব্যের মূল কথা—সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য একজন নারীর হৃদয়ে থাকে, পোশাকের কাটে নয়।

আসলে বিনোদন জগতে অভিনেত্রীদের পোশাক নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রৌতেলাও পোশাক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একটি অনুষ্ঠানে তেরঙ্গার রং থেকে অনুপ্রাণিত পোশাকে হাজির হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে উর্বশী জানিয়েছিলেন, সেই পোশাকের মাধ্যমে দেশের প্রতি নিজের আবেগই প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।

অন্য দিকে, অভিনেত্রী সাইয়ামি খেরও বলিউডে কেরিয়ার শুরুর সময় নিজের চেহারা বদলানোর পরামর্শ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর কোঁকড়ানো চুল নিয়ে আপত্তি ছিল অনেকের। তবে সেই চাপের কাছে মাথা নত করেননি তিনি। নিজেকে ‘কারখানায় তৈরি পুতুল’-এর মতো করে তুলতে চাননি বলেই জানিয়েছিলেন সাইয়ামি। ফলে কৃতির সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধুমাত্র একটি বিজ্ঞাপনের পোশাক নিয়ে বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং অভিনেত্রীদের পোশাক, চেহারা এবং ব্যক্তিগত স্টাইল নিয়ে সমাজের প্রত্যাশা ও চাপের বিষয়টিও ফের সামনে এসেছে।

রাখিবন্ধনের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবে পোশাকের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই সংজ্ঞার বাইরে গেলেই কি কোনও নারী তাঁর সংস্কৃতি বা মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যান? কৃতির বক্তব্য সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—একজন নারীর পরিচয় কিংবা সংস্কৃতির মাপকাঠি তাঁর পোশাক হওয়া উচিত নয়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক