হৃদ্রোগের উপসর্গ সব মানুষের ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে দেখা দেওয়া কিছু লক্ষণ অনেক সময় গ্যাস, অম্বল, ক্লান্তি বা সাধারণ শারীরিক সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে যায়। ফলে সতর্কতার অভাবে চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে।
হার্টের আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা এবং তার সঙ্গে রক্তনালিতে প্রদাহ ও রক্তপ্রবাহের সমস্যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শরীরের কিছু পরিবর্তনকে অবহেলা না করাই জরুরি।
হার্টের চারপাশে চর্বি জমলে কী হয়?
হৃৎপিণ্ডের বাইরের আবরণীর আশপাশে থাকা চর্বিকে এপিকার্ডিয়াল অ্যাডিপোজ় টিস্যু বলা হয়। স্বাভাবিক পরিমাণে এই চর্বি হৃদ্পিণ্ডকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বি জমলে তা হৃদ্পিণ্ড ও রক্তনালির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই অতিরিক্ত চর্বি থেকে প্রদাহ-সম্পর্কিত কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হতে পারে। রক্তনালিতে চর্বি ও প্লাক জমে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হৃদ্পেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সেটিই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের আগে কোন লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে?
১. বুকে ব্যথা বা চাপ
বুকে চিনচিনে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি হতে পারে। সেই ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ না থেকে ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ, পিঠ কিংবা পেটের উপরিভাগেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২. হঠাৎ শ্বাসকষ্ট
পরিশ্রম না করেও শ্বাসকষ্ট হওয়া বা হাঁসফাঁস করার মতো অনুভূতি সতর্ক হওয়ার মতো লক্ষণ। রাতে শুয়ে পড়ার পর দমবন্ধ লাগাও অবহেলা করা উচিত নয়।
৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও প্রচণ্ড ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঝিমুনি থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে অন্য উপসর্গের সঙ্গে এমন ক্লান্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. অম্বল, বমি ভাব
বার বার অম্বল, বুকজ্বালা, বমি ভাব বা পেটের উপরের অংশে অস্বস্তিকে অনেক সময় সাধারণ গ্যাসের সমস্যা মনে করা হয়। কিন্তু এর সঙ্গে বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে হৃদ্রোগের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে।
৫. অতিরিক্ত ঘাম ও মাথা ঘোরা
হঠাৎ অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
কেন মেয়েদের ক্ষেত্রে সতর্কতা বেশি জরুরি?
নারী শরীরে হরমোনের পরিবর্তন এবং বয়সের সঙ্গে বিভিন্ন হৃদ্রোগের ঝুঁকি বদলাতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, মানসিক চাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সব সময় তীব্র বুকব্যথা দিয়ে শুরু হয় না। তাই অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা হঠাৎ দুর্বলতার মতো উপসর্গও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
কী করবেন?
বুকে ব্যথা বা চাপের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব কিংবা ব্যথা হাত-চোয়াল-পিঠে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন। হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে নিজে থেকে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে উপসর্গ কমার অপেক্ষা করা ঠিক নয়।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে কি না তা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল এবং প্রয়োজনীয় হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা করানো যেতে পারে। ইকোকার্ডিয়োগ্রাম, কার্ডিয়াক সিটি বা এমআরআই সবার জন্য নিয়মিত প্রয়োজন হয় না—কোন পরীক্ষা দরকার, তা চিকিৎসক উপসর্গ ও ঝুঁকি বিচার করে ঠিক করেন।
সকালে ২–৩টি তুলসীপাতা চিবিয়ে খেলে কী উপকার? হজম থেকে রক্তে শর্করা—জেনে নিন কী বলছে গবেষণা
মনে রাখবেন: হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হালকা হলেও তা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। বিশেষ করে বুকে অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.