ইরান ও আমেরিকার সংঘাত এবার নতুন মাত্রা পেল। হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ডুবোযান বাজেয়াপ্ত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। শুধু দাবি করেই থেমে থাকেনি তেহরান। বাজেয়াপ্ত করা ডুবোযানটির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে আইআরজিসি-র মুখপত্র সেফা নিউজ। যদিও ইরানের এই দাবির পর মার্কিন সেনার তরফে ঘটনাটিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আইআরজিসি-র দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার একটি ‘অত্যাধুনিক’ ও ‘স্মার্ট’ ডুবোযান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান। সেটির নাম ‘ডাইভ-এলডি’। প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও অনুযায়ী, এটি সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত বড় সাবমেরিন নয়। বরং বড় জাহাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত একটি সাবমার্সিবল বা ডুবোযান।
ইরানের আরও দাবি, হরমুজ প্রণালীর উপর নজরদারি চালানোর সময় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও গুলি করে নামিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে ইরান-মার্কিন সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ইরানের দাবির পরেই পালটা বিবৃতি দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সেনার বক্তব্য, জলসীমায় নজরদারি চালানোর সময় একটি ডুবো ড্রোন ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ কবলে পড়েছিল। ইরান যে ডুবোযানটি বাজেয়াপ্ত করার দাবি করছে, সেটিই ওই ড্রোন কি না, তা স্পষ্ট করে জানায়নি ওয়াশিংটন।
একইসঙ্গে মার্কিন সেনা দাবি করেছে, ওই সাবমার্সিবেল বা ডুবো ড্রোনে কোনও স্পর্শকাতর তথ্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রেডার সরঞ্জাম ছিল না। অর্থাৎ, ইরানের হাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি চলে যাওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই বার্তা দিতে চেয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে জানা গিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে নজরদারির জন্য আমেরিকা স্বয়ংক্রিয় ডুবো ড্রোন ব্যবহার করছে। মানুষের প্রাণের ঝুঁকি এড়িয়ে সমুদ্রের তলায় নজরদারি চালাতেই এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইরানের দাবি সত্যি হলে, সেই ডুবোযানেরই একটি তাদের হাতে চলে এসেছে।
এই ঘটনার মধ্যেই আরও বড় প্রশ্ন উঠছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও চাপ বজায় রেখেছে আমেরিকা। একাধিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞার পরেও তেহরান নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। আমেরিকার শর্তে শান্তি আলোচনাও এখনও কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি।
https://x.com/Osint613/status/2097390208249389519
ফলে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ডুবোযান বাজেয়াপ্তের ইরানি দাবি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি যদি সত্যি হয়, তবে ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়া সংঘাতে ইরানের পালটা সক্ষমতার একটি বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হতে পারে। যদিও ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং ডুবোযানটির পরিচয় নিয়ে এখনও ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।
আরও পড়ুন,
বাঘের থাবায় প্রাণ গেল ৩৬-এর আজিতের, অঙ্গদানের মহান সিদ্ধান্ত নিয়েও মিলল না কাঙ্ক্ষিত সাফল্য

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.