ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। এই দিনে ভক্তরা বাড়িতে গণেশের মূর্তি এনে পুজো ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন। তবে পুজোর ক্ষেত্রে শুভ সময় ও সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেনে নিন ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর তিথি, পুজোর শুভ মুহূর্ত, চন্দ্র দর্শন নিষেধের সময় এবং ঘরে গণেশ প্রতিষ্ঠার নিয়ম।
গণেশ চতুর্থী ২০২৬-এর তিথি ও শুভ সময়
বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন মধ্যাহ্নকালকে গণেশ পুজোর জন্য সবচেয়ে শুভ সময় হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই ভগবান গণেশের আবির্ভাব হয়েছিল।
চতুর্থী তিথি শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর ৩টা ১২ মিনিট
চতুর্থী তিথি শেষ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২টা ৮ মিনিট
গণেশ পুজো ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার শুভ সময়: ১৪ সেপ্টেম্বর, সকাল ১১টা ৩ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩২ মিনিট
শুভ সময়ের মোট স্থায়িত্ব: ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট
তাই এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করলে বিশেষ ফল লাভের বিশ্বাস রয়েছে।
কখন চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলবেন?
গণেশ চতুর্থীর সঙ্গে চন্দ্র দর্শনের একটি বিশেষ নিয়ম জড়িত রয়েছে। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নির্দিষ্ট সময়ে চাঁদ দেখা উচিত নয়। ভুল করে চাঁদ দেখে ফেললে মিথ্যা অপবাদ বা ‘মিথ্যা কলঙ্ক’-এর সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মনে করা হয়।
চন্দ্র দর্শন নিষেধের সময়: ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টা ১২ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।
তাই এই সময়ের মধ্যে আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলাই ভালো।
ঘরে কীভাবে গণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করবেন?
গণেশ চতুর্থীর দিনে বাড়িতে গণপতি প্রতিষ্ঠার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুজো শুরু করতে পারেন।
ঈশান কোণে মূর্তি স্থাপন
স্নান করে পরিষ্কার লাল বা হলুদ পোশাক পরুন। বাড়ির ঈশান কোণে অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব দিকে একটি কাঠের পিঁড়ি রাখুন। তার উপর লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে গণেশের মূর্তি স্থাপন করুন। গণপতির ডান দিকে জলভরা কলশ এবং চালভরা পাত্র রাখতে পারেন।
দুর্বা, ফুল ও সিঁদুর অর্পণ
গণেশের পুজোয় দুর্বার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুজোয় ২১টি দুর্বার আঁটি, লাল চন্দন, ফুল ও সিঁদুর নিবেদন করা শুভ বলে মনে করা হয়। গণপতির প্রিয় ভোগ হিসেবে মোদক ও বেসনের লাড্ডু নিবেদন করতে পারেন।
মন্ত্র জপ ও আরতি
পুজোর সময় ভক্তিভরে গণেশ মন্ত্র জপ করুন।
‘ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ’ মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে পারেন। এছাড়াও গণেশের গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করা যায়। মন্ত্রপাঠের পর ধূপ, দীপ ও পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে গণেশের আরতি করুন।
গ্রহদোষ ও জীবনের বাধা কাটাতে বিশেষ উপায়
জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিনে কিছু বিশেষ দ্রব্য গণেশকে নিবেদন করলে গ্রহজনিত বাধা ও জীবনের নানা সমস্যা কাটতে পারে।
বুধ ও কেতুর অশুভ প্রভাব কমাতে
বুধ ও কেতুর অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য গণেশকে ২১টি দুর্বা এবং সবুজ মুগ ডাল নিবেদন করতে পারেন। বিশ্বাস করা হয়, এতে বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।
আর্থিক সমস্যা কাটাতে
অর্থনৈতিক সংকট বা ঋণের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য গণেশকে গুড় ও শমী পাতা নিবেদন করার রীতি রয়েছে। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে গণেশ ও দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
Vastu: কখন গণেশপুজো করলে সবচেয়ে শুভ ফল পাবেন? জানুন তিথি ও সময়সূচি
গণেশ চতুর্থীতে থাকুক ভক্তি ও শুদ্ধতা
গণেশ চতুর্থীর মূল উদ্দেশ্য হল ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিঘ্নহর্তা গণেশের আরাধনা করা। শুভ মুহূর্তে মূর্তি প্রতিষ্ঠা, নিয়ম মেনে পুজো, মন্ত্রজপ ও আরতির মাধ্যমে গণপতির আশীর্বাদ প্রার্থনা করুন। বিশ্বাস করা হয়, সিদ্ধিদাতা গণেশের কৃপায় জীবনের বাধা দূর হয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.