সনাতন বৈদিক ধর্মে ভগবান গণেশকে বিঘ্নহর্তা, সিদ্ধিদাতা এবং সর্বাগ্রে পূজ্য দেবতা হিসেবে মানা হয়। তাই কোনও শুভ কাজ, পুজো কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরুর আগে গণেশ বন্দনার রীতি বহু প্রাচীন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন গণেশের মানবদেহের সঙ্গে হাতির মাথা? কীভাবেই বা পার্বতীপুত্র ‘গজানন’ নামে পরিচিত হলেন?
গণেশের গজমুখ লাভের কাহিনি ঘিরে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন পুরাণে নানা আখ্যান পাওয়া যায়। এর মধ্যে শিব পুরাণে বর্ণিত কাহিনিই সবচেয়ে প্রচলিত। এই কাহিনির মধ্যেই রয়েছে মাতৃভক্তি, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেবশক্তির গভীর তাৎপর্য।
পার্বতীর উবটান থেকে জন্ম গণেশের
পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, একদিন দেবী পার্বতী স্নান করতে যাওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তার জন্য একজন বিশ্বস্ত প্রহরী চান। কথিত আছে, নিজের শরীরের উবটান ও হলুদের প্রলেপ দিয়ে তিনি এক বালকের মূর্তি তৈরি করেন এবং তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন।
এই বালকই ছিলেন গণেশ। পার্বতী তাঁকে নির্দেশ দেন, তিনি স্নান না করা পর্যন্ত যেন কাউকেই ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। মায়ের আদেশকে পরম কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেন বালক গণেশ এবং দরজায় পাহারায় দাঁড়িয়ে যান।
শিবকে প্রবেশে বাধা দিলেন গণেশ
কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন মহাদেব শিব। তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে বালক গণেশ তাঁকে বাধা দেন। কারণ গণেশ জানতেন না যে তাঁর সামনে স্বয়ং মহাদেব, তাঁর পিতা।
অন্যদিকে শিবও জানতেন না যে এই বালক পার্বতীর পুত্র। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিবের অনুচরেরা গণেশকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বালক একাই তাঁদের প্রতিহত করেন।
শেষ পর্যন্ত গণেশের দৃঢ়তা ও বাধায় ক্রুদ্ধ হয়ে মহাদেব তাঁর ত্রিশূল দিয়ে বালকের মস্তক ছেদন করেন।
পুত্রের মৃত্যুতে রুদ্ররূপ ধারণ পার্বতীর
পুত্রের মৃত্যুসংবাদ শুনে দেবী পার্বতী প্রবল ক্রোধে রুদ্ররূপ ধারণ করেন। তাঁর ক্রোধে সমগ্র সৃষ্টিজগত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি শান্ত করতে দেবতারা শিবের কাছে সমাধানের আবেদন জানান।
তখন মহাদেব গণেশকে পুনর্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দেবগণকে নির্দেশ দেন, উত্তর দিকে মুখ করে শায়িত প্রথম যে প্রাণীর দেখা পাওয়া যাবে, তার মাথা নিয়ে আসতে।
হাতির মাথা পেলেন গণপতি
শিবের নির্দেশ অনুযায়ী দেবগণ একটি হাতির সন্ধান পান। সেই হাতির মাথা এনে বালক গণেশের ধড়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এরপর মহাদেব তাঁর মধ্যে পুনরায় প্রাণ সঞ্চার করেন।
এইভাবেই মানবদেহের সঙ্গে গজমস্তক যুক্ত হয়ে গণেশ ‘গজানন’ রূপ লাভ করেন।
গণেশ চতুর্থী থেকেই ভাগ্যোদয়! আটকে থাকা টাকা ফেরার যোগ, সমৃদ্ধির মুখ দেখবেন ৩ রাশির জাতক
কেন গণেশ হলেন ‘গণপতি’?
গণেশকে পুনর্জীবিত করার পর মহাদেব তাঁকে নিজের গণদের অধিপতি বা ‘গণপতি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আশীর্বাদ দেন, পৃথিবীতে কোনও শুভ কাজ শুরু করার আগে সর্বপ্রথম গণেশের পুজো করা হবে।
এই কারণেই হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে গণেশ বন্দনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর গজমুখ শুধু একটি পৌরাণিক পরিচয় নয়, ভক্তদের কাছে এটি জ্ঞান, শক্তি, বুদ্ধি ও বাধা অতিক্রম করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
তথ্যসূত্রের ভিত্তি: শিব পুরাণে প্রচলিত গণেশের জন্ম ও গজমুখ লাভের পৌরাণিক আখ্যান।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.