প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘ এক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন অভিনেত্রী। মুম্বইতেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসায় সাড়া দেননি তিনি।
বহু বছর ধরেই মুম্বইয়ে থাকতেন মিঠু। জানা যায়, দক্ষিণ কলকাতার বাড়িটিও তিনি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। গত এক বছর ধরে মুম্বইয়ে থেকেই ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল তাঁর। রবিবার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় অভিনেত্রীর। বাংলা চলচ্চিত্রে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল স্বতন্ত্র। মিষ্টি মুখ, সাবলীল অভিনয় এবং চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার দক্ষতায় অল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ও ওড়িয়া ছবিতেও অভিনয় করেছেন মিঠু। ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাঁর অভিনয়জীবন।
১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন মিঠু। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সমিত ভঞ্জ। তবে ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ ছবিতে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে পরিচিতি পান তিনি। আলিবাবার পরিচারিকা মর্জিনার চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন দেবরাজ রায়।
এর পর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ‘নিশিকন্যা’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন মিঠু। ১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। এই ছবিতে নীপা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিতেশের ভূমিকায় ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক। তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ছবিতে উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুপকুমার, চিন্ময় রায় ও রবি ঘোষের মতো শিল্পীরাও ছিলেন।
‘মৌচাক’-এর পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ফের জুটি বাঁধেন ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে। ১৯৭৫ সালের এই ছবিটিও তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ। এর আগে ‘কবি’ ছবিতে দেবরাজ রায়ের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘চাঁদের কাছাকাছি’ এবং ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো ছবিতেও দেখা যায় তাঁকে।
বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি ছবিতে তাঁর অভিষেক হয়। শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ছবিতে রাজ কপূরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন। এরপর বাসু চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেন মিঠু। ‘দিল্লাগি’ ছবিতেও শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
১৯৭৭ সালে ‘প্রতিমা’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠু। তাঁর পাশাপাশি ছবিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ভূমিকায় ছিলেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। ছবিটিও বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছিল। অভিনয়জীবন খুব দীর্ঘ না হলেও সেই সময়ের একাধিক খ্যাতনামা শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, রাজ কপূর, বিনোদ মেহরা, নবীন নিশ্চল, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপকুমার এবং মহুয়া রায়চৌধুরীর মতো শিল্পীদের সঙ্গে একই পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
অনেক বছর আগেই অভিনয়জগত থেকে সরে গিয়েছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। তবে ‘মৌচাক’-এর নীপা, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র মর্জিনা কিংবা ‘আশ্রিতা’-র মতো চরিত্রের মাধ্যমে বাংলা ছবির দর্শকের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন তিনি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.