ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সংসারে অন্ন, সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রতীক হলেন Annapurna Puja। দেবী অন্নপূর্ণাকে অন্নদাত্রী হিসেবে মানা হয়—যিনি শুধু দেবাদিদেব মহাদেবকেই নয়, সমগ্র জগতকে খাদ্য ও প্রাচুর্যের আশীর্বাদ প্রদান করেন। শাস্ত্র ও পুরাণে দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্যের বহু উল্লেখ রয়েছে, আর সেই কারণেই প্রতি বছর ভক্তরা গভীর ভক্তিভরে এই পুজো পালন করেন।
পুরাণে দেবী অন্নপূর্ণার কাহিনি
পুরাণ মতে, একসময় দেবাদিদেব মহাদেবের সঙ্গে দেবী অন্নপূর্ণার মতবিরোধ হয়। সেই কারণে দেবী কৈলাস ত্যাগ করেন। দেবীর প্রস্থানেই পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব দেখা দেয়, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির আশঙ্কা তৈরি হয়। তখন মানুষের দুঃখ দূর করতে মহাদেব নিজেই ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর কৃপা ছাড়া অন্ন লাভও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও ভিক্ষা মিলছিল না।
পরবর্তীতে মহাদেব জানতে পারেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্নদান করছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, সেই নারী আর কেউ নন—দেবী অন্নপূর্ণা স্বয়ং। অবশেষে দেবীর কাছ থেকেই মহাদেব ভিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেই অন্নের মাধ্যমে ভক্তদের খাদ্যাভাব ও বিপদ থেকে মুক্তি দেন। এই কাহিনি থেকেই দেবী অন্নপূর্ণার অন্নদাত্রী রূপের মাহাত্ম্য বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত।
কবে পড়ছে অন্নপূর্ণা পুজো
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই তিথিতেই প্রতি বছর দেবীর পুজো পালিত হয়।
২০২৬ সালে অন্নপূর্ণা পুজো পড়ছে ১১ চৈত্র, অর্থাৎ ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার)। এই দিন ভক্তরা দেবীর আরাধনা করে সংসারের অন্ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি
অষ্টমী তিথি শুরু:
১০ চৈত্র (২৫ মার্চ, বুধবার)
সময়: দুপুর ১টা ৫২ মিনিট
অষ্টমী তিথি শেষ:
১১ চৈত্র (২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার)
সময়: সকাল ১১টা ৪৯ মিনিট
নবমী তিথি শুরু:
১১ চৈত্র (২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার)
সময়: সকাল ১১টা ৫০ মিনিট
নবমী তিথি শেষ:
১২ চৈত্র (২৭ মার্চ, শুক্রবার)
সময়:সকাল ১০টা ৭ মিনিট
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি
অষ্টমী তিথি শুরু:
১০ চৈত্র (২৫ মার্চ, বুধবার)
সময়: বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ড
অষ্টমী তিথি শেষ:
১১ চৈত্র (২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার)
সময়: দুপুর ২টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড
নবমী তিথি শুরু:
১১ চৈত্র (২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার)
সময়: দুপুর ২টা ২৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড
নবমী তিথি শেষ:
১২ চৈত্র (২৭ মার্চ, শুক্রবার)
সময়: দুপুর ১২টা ২০ মিনিট ১৭ সেকেন্ড
পুজোর গুরুত্ব
বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা করলে সংসারে খাদ্যের অভাব দূর হয় এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। অনেক জায়গায় এই দিনে অন্নদান বা ভোগ বিতরণের বিশেষ আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে কাশীসহ বিভিন্ন মন্দিরে এই পুজোকে ঘিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.