টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর মন্তব্যে। অভিনেতা দেব-এর উদ্যোগকে সমর্থন করলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই জটিল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় এক বৈঠকে দেব ঘোষণা করেন, টলিউড থেকে ‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। গত দেড় বছর ধরে যাঁরা কার্যত কাজের বাইরে ছিলেন, তাঁদের ফের মূলধারায় আনার কথাও বলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অস্বাভাবিক মৃত্যু, যা গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
দেব জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁর আলোচনা হয়েছে প্রসেনজিতের সঙ্গে এবং তিনিই বিষয়টি দেখছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরোনোর পর সাংবাদিক বৈঠকে প্রসেনজিৎ বলেন, “আমি দেবের ভাবনাকে পুরোপুরি সমর্থন করি, কিন্তু ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার ক্ষমতা আমারও নেই।”
মতভেদ নয়, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য
এই মন্তব্যের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—তাহলে কি দেব ও প্রসেনজিতের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে? তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রসেনজিৎ নিজেই। তাঁর দাবি, তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং এই বিষয়টি কোনও ব্যক্তিগত ‘ইগো ক্ল্যাশ’ নয়।
তিনি আরও বলেন, রাহুলের মৃত্যু কোনও দাবি আদায়ের আন্দোলনের অংশ নয়, বরং এটি শিল্পীদের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গোটা ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়েছিল সত্য জানার জন্য এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে।
কেন সময় লাগবে?
প্রসেনজিতের মতে, ‘ব্যান কালচার’ একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যার সমাধান একদিনে বা কয়েক ঘণ্টায় সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠন, শিল্পী, টেকনিশিয়ান—সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি জানান, সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এখনই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। সব কিছু স্বাভাবিক হলে আগামী দেড় থেকে দু’মাসের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আক্ষেপ
এই প্রসঙ্গে নিজের জীবনের একটি অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, একসময় শুটিং সেটে প্রস্তুত হয়েও তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। সেই সময় সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনও সমর্থন পাননি তিনি, যা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছেন, ‘ব্যান কালচার’ কতটা মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে এবং কেন এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অসন্তোষ
দেবের করা ‘৭২ ঘণ্টা’ পোস্ট নিয়েও কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রসেনজিৎ। তাঁর মতে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার আগে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করা যেত। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনকে যুক্ত করা উচিত ছিল।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে, দেবের উদ্যোগকে সঠিক দিশা বলেই মনে করছেন প্রসেনজিৎ। তবে তাঁর মতে, আবেগ নয়—পরিকল্পনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তই পারে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে।
তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার ইচ্ছা সবারই আছে, কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করতে সময়, সংলাপ এবং ঐক্য—এই তিনটি জিনিসই সবচেয়ে জরুরি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.