মাত্র ২১ বছর বয়সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম তুলে ফেললেন হুগলির মগরা ব্লকের দিঘসুই গ্রামের মেয়ে স্বপ্নীলা আচার্য। ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে দিল্লির কর্তব্য পথে যখন দেশের সামরিক শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রদর্শনী হবে, তখন সেই কুচকাওয়াজের ধারাভাষ্য শোনা যাবে এক বঙ্গকন্যার কণ্ঠে। চলতি বছরে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে সর্বকনিষ্ঠ সঞ্চালক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্বপ্নীলা।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষনেতাদের সামনে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর গ্রাম থেকে শুরু করে গোটা হুগলি জেলাজুড়ে।
স্বপ্নীলার শিক্ষাজীবনও কম অনুপ্রেরণাদায়ক নয়। বাবার বদলির চাকরির কারণে তাঁর স্কুলের পড়াশোনা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে স্নাতক স্তরের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি মেধা ও আত্মবিশ্বাসের জোরেই অল্প বয়সে নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন। এর আগেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘যুবিকা’ (YUVIKA)-র অধীনে ইসরোর ‘ইয়াং সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তাঁর যমজ ভাই স্বপ্নীলও একই প্রকল্পে সুযোগ পেয়েছিলেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সেরিমোনিয়াল বিভাগের প্যানেলের ধারাভাষ্যকার হিসেবে স্বপ্নীলার উত্থান কার্যত উল্কার গতিতে। সম্প্রতি জয়পুরে আয়োজিত ‘আর্মি ডে প্যারেড’ এবং সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শৌর্য সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে তিনি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেছেন। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ দেশের শীর্ষ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তারা। সেখানেই তাঁর কণ্ঠ ও উপস্থাপনার প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে।
এ বার প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্য দিয়ে দিল্লির বুকে বাংলার নাম উজ্জ্বল করতে চলেছেন স্বপ্নীলা আচার্য। হুগলির এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দেশের সর্বোচ্চ মঞ্চে পৌঁছনোর এই যাত্রা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার গল্প।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.