ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে পর্দা শুধু একটি অন্দরসজ্জার উপকরণ নয়, বরং অনেকের বিশ্বাস অনুযায়ী এটি ঘরের পরিবেশ ও আবহের উপরও প্রভাব ফেলে। বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়, ঘরের বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রবেশ করা শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পর্দার রং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সঠিক রং ঘরে ইতিবাচক আবহ তৈরি করতে সাহায্য করে, আবার অনুপযুক্ত রং অস্বস্তিকর বা ভারী পরিবেশের অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হয়।
তবে মনে রাখা জরুরি, এগুলি মূলত বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক প্রচলিত বিশ্বাস। এর পক্ষে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও অনেকেই ঘরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই নিয়ম মেনে চলতে পছন্দ করেন।
বসার ঘরে কোন রঙের পর্দা ভাল?

বসার ঘর পরিবারের সদস্যদের একত্রে সময় কাটানোর এবং অতিথিদের আপ্যায়নের জায়গা। বাস্তুমতে, এই ঘরে হলুদ, ক্রিম বা হালকা বাদামি রঙের পর্দা ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশ আরও উষ্ণ, প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। এই রংগুলি পারিবারিক সম্পর্কের মাধুর্য বজায় রাখতেও সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
রান্নাঘরে উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব
রান্নাঘরকে অগ্নি উপাদানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তাই এখানে হালকা লাল, কমলা বা হালকা হলুদ রঙের পর্দা ব্যবহারকে শুভ ধরা হয়। এই রংগুলি ইতিবাচক শক্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে গাঢ় নীল বা কালো রঙের পর্দা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঠাকুরঘরের জন্য কোন রং সবচেয়ে উপযুক্ত?
পুজোর ঘরে শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে সাদা, হালকা হলুদ, গেরুয়া বা কমলা রঙের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। বাস্তুশাস্ত্রে এই রংগুলিকে ভক্তি, পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
দাম্পত্য জীবনের জন্য শোয়ার ঘরে কেমন রং?
শোয়ার ঘরে এমন রং বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় যা মনকে শান্ত রাখে। গোলাপি, হালকা নীল, হালকা সবুজ বা ক্রিম রঙের পর্দা সম্পর্কের উষ্ণতা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং মানসিক স্বস্তি বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। গাঢ় লাল বা কালো রং ব্যবহার না করাই ভাল বলে বাস্তুমতে উল্লেখ রয়েছে।
সন্তানদের ঘরের জন্য সঠিক রঙের পরামর্শ
শিশু বা পড়ুয়াদের ঘরে হালকা সবুজ, হলুদ কিংবা হালকা আকাশি রঙের পর্দা ব্যবহার করার কথা বলা হয়। সবুজ মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধির প্রতীক, আর হলুদ ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
বয়স্কদের ঘরে শান্ত রঙের ব্যবহার
পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ঘরে সাদা, ঘিয়ে, হালকা হলুদ বা হালকা বেগনি রঙের পর্দা ব্যবহার করলে শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয় বলে বাস্তুশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই ধরনের কোমল রং মানসিক প্রশান্তি এবং স্বস্তিদায়ক ঘুমের জন্যও উপযোগী বলে ধরা হয়।
শেষকথা
বাস্তুশাস্ত্রের এই পরামর্শগুলি বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই ঘরের পর্দা নির্বাচন করার সময় বাস্তুর পাশাপাশি ঘরের আলো, দেয়ালের রং, অন্দরসজ্জা এবং নিজের পছন্দকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সঠিক রঙের সমন্বয় ঘরকে যেমন আরও আকর্ষণীয় করে তোলে, তেমনই বাসিন্দাদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতেও সাহায্য করতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.