বিগ বস বাংলার বাড়িতে ৩৯ দিন কাটিয়ে অবশেষে বাইরের দুনিয়ায় ফিরেছেন প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। আর বাড়ি থেকে বেরিয়েই একের পর এক অজানা অভিজ্ঞতার কথা ফাঁস করলেন তিনি। কখনও রসগোল্লার রস দিয়ে চা বানানো, কখনও মাঝরাতে কান্নায় ভেঙে পড়া নন্দিনীকে সামলানো, আবার কখনও সহ-প্রতিযোগীদের গেমপ্ল্যান ভেস্তে দেওয়া—বিগ বসের বাড়িতে এমনই নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন দীপেন্দু। তবে তাঁর সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে জিতুর আচরণ। একটি সাক্ষাৎকারে বিগ বসের বাড়ির অন্দরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তিনি।
বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীদের কাছে খাবারদাবার নিয়ে যে নানা সমস্যা তৈরি হত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দীপেন্দুর কথায়। তাঁর দাবি, লাক্সারি বাজেটে চিনি ও আলুর মতো প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশি থাকায় খাবারের পরিকল্পনা করেই করতে হত প্রতিযোগীদের। তাই মাংস বা আলুর বদলে ডিমের উপরেই বেশি ভরসা করতে হয়েছিল তাঁদের।
দীপেন্দুর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রায় ৪০ দিনে মাত্র দু’দিন চিকেন এবং একদিন ইলিশ মাছ খাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল চা তৈরি করার পদ্ধতি। সপ্তাহান্তে সঞ্চালকের আসার সময় মিষ্টি বা রসগোল্লা দেওয়া হত। সেই রসগোল্লার রস জমিয়ে রেখে পরবর্তী চার-পাঁচ দিন চা বানানোর কাজে ব্যবহার করতেন প্রতিযোগীরা। এমনকি কফির ক্ষেত্রেও ছিল কড়া হিসাব। কফির ডিব্বা থেকে মেপে মেপে এক চামচ করে কফি নেওয়া হত। সব মিলিয়ে, বিগ বসের বাড়িতে টিকে থাকার লড়াই যে বেশ কঠিন ছিল, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন দীপেন্দু।
জিতুর মিথ্যে কান্নায় ক্ষুব্ধ দীপেন্দু!
বিগ বসের বাড়িতে বিভিন্ন প্রতিযোগীর সঙ্গে সময় কাটালেও জিতুর একটি আচরণ একেবারেই মেনে নিতে পারেননি দীপেন্দু। তাঁর কথায়, এলিমিনেশনের দিন জিতু চোখে জল নিয়ে এসে তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি নাকি দীপেন্দুকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু পরে দীপেন্দু জানতে পারেন, বাস্তবটা ছিল অন্য রকম। একজন খেলোয়াড় হিসেবে বরাবরই স্পোর্টসম্যান স্পিরিটে বিশ্বাস করেন দীপেন্দু। তাই তাঁর মতে, প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য কৌশল অবলম্বন করা যেতেই পারে। কিন্তু সেই কারণে মিথ্যে আবেগ দেখানো তাঁর পছন্দ নয়। বিগ বসের বাড়িতে গেম খেলার সঙ্গে ব্যক্তিগত আবেগকে মিশিয়ে ফেলার বিষয়টি নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দীপেন্দুর বিদায়ে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছিলেন গায়ক দুর্নিবার সাহা। বাড়ির ভিতরে তাঁদের সম্পর্ক যে যথেষ্ট আন্তরিক ছিল, সেই ইঙ্গিতও মিলেছে তাঁর অভিজ্ঞতায়।
মাঝরাতে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নন্দিনী!
বিগ বসের বাড়িতে শুধু ঝগড়া কিংবা কৌশল নয়, প্রতিযোগীদের আবেগঘন মুহূর্তও সামনে এসেছে দীপেন্দুর কথায়। একদিন মাঝরাতে কান্নাকাটি করতে করতে তাঁর কাছে ছুটে এসেছিলেন নন্দিনী। সেই সময় দীপেন্দু বাড়ির বাইরে ঘুমোচ্ছিলেন। নন্দিনীকে এমন অবস্থায় দেখে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, সৃজলার সঙ্গে কোনও একটি বিষয় নিয়ে নন্দিনীর ঝামেলা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে দীপেন্দু তাঁকে মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেন। শুধু তাই নয়, সমস্যা মেটাতে সৃজলার কাছে গিয়ে বারবার ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। সৃজলা রেগে থাকলেও পরিস্থিতি সামলানোর জন্য নন্দিনীকে ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন দীপেন্দু। শেষ পর্যন্ত তাঁর পরামর্শ মেনেই সৃজলার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন নন্দিনী।
এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট, বিগ বসের বাড়িতে নানা মতবিরোধের মধ্যেও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতেন দীপেন্দু।
অনুষ্কার পরিকল্পনা ভেস্তে দেন দীপেন্দু, মনামী ও সোনামণি!
বিগ বসের বাড়িতে নজর কাড়তে প্রতিযোগীরা যে নানা কৌশল অবলম্বন করেন, তারও সাক্ষী থেকেছেন দীপেন্দু। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, একবার অনুষ্কা এবং আরও কয়েকজন প্রতিযোগী সকালে ঝামেলা বাধানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে ডাল ফেলে দেওয়া এবং লঙ্কা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। কাকভোরে উঠে দীপেন্দু, মনামী ঘোষ এবং সোনামণি সাহা মিলে সব পরিষ্কার করে দেন। ফলে সকালে অশান্তি তৈরি করার পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে যায়।
এদিকে, বিগ বসের বাড়িতে বার্নার চুরি যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন দীপেন্দু। ফলে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন—সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
৩৯ দিন পর ফোন হাতে পেয়েও বিশেষ আগ্রহ ছিল না!
দীর্ঘ ৩৯ দিন মোবাইল ফোন ছাড়া থাকার পর বাইরের দুনিয়ায় ফিরে ফোন হাতে পেয়ে কেমন অনুভূতি হয়েছিল দীপেন্দুর? তাঁর উত্তর শুনে অবাক হতে পারেন অনেকেই। দীপেন্দু জানিয়েছেন, ফোন হাতে পাওয়ার পর সেটি নিয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। বাড়িতে শুধু একটি ফোন করে নিজের ফিরে আসার খবর জানিয়েছিলেন। তারপর বাইরের খাবার খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম ভাঙে পরের দিন সকালে। বিগ বসের বাড়িতে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা নিয়েও নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কথা বলেছেন তিনি। দীপেন্দু জানিয়েছেন, ৩৯ দিনে অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাটানো সময়ে মাত্র একবার রাজবীরের উপর রেগে গিয়েছিলেন। বাকি সময়টা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শান্ত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন।

বিগ বসের বাড়িতে সত্যিকারের বন্ধু হওয়া সম্ভব নয়?
বিগ বসের বাড়িতে নিজের সময় কাটানোর একটি বিশেষ কৌশলও ছিল দীপেন্দুর। বাড়ির এমন একটি নির্দিষ্ট চেয়ারে বসতেন তিনি, যেখান থেকে প্রায় গোটা বাড়ির উপর নজর রাখা যেত। জলের বোতল হাতে সেই চেয়ারে বসেই অন্য প্রতিযোগীদের আচরণ এবং তাঁদের গেমপ্ল্যান পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। দীপেন্দুর মতে, বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে কাউকে প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ, আজ যে বন্ধু হিসেবে পাশে রয়েছে, পরিস্থিতি বদলালে তাকেই হয়তো নমিনেট করতে হতে পারে। তাই আবেগের পাশাপাশি কৌশল এবং পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতাও এই খেলায় গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বিগ বস বাংলার বাড়ি থেকে বেরিয়ে দীপেন্দুর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে প্রতিযোগীদের সম্পর্কের টানাপোড়েন, খাবার নিয়ে টিকে থাকার লড়াই এবং গেম জেতার নানা কৌশল। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর বিগ বসের বাড়ির অন্দরমহল নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.