দিনের শুরু হোক কিংবা ব্যস্ত কাজের ফাঁকে একটু বিরতি— এক কাপ কফি অনেকের কাছেই স্বস্তির সঙ্গী। শুধু সতেজ অনুভূতিই নয়, সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সঠিক উপায়ে কফি পান করলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় যখন তা অতিরিক্ত চিনি বা ভারী ক্রিম ছাড়া পান করা হয়। ব্ল্যাক কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি পানকারীদের মধ্যে অকালমৃত্যু এবং হৃদ্রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে গবেষকরা এ-ও জানিয়েছেন, এই ধরনের সমীক্ষা সরাসরি কারণ-প্রমাণ করে না; জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য বিষয়ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভার সিরাপ বা বেশি পরিমাণ ক্রিম মেশানো কফি নিয়মিত খেলে ক্যালোরি ও চিনি গ্রহণ বেড়ে যায়, যা ওজন বৃদ্ধি বা বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য ব্ল্যাক কফি বা অল্প দুধ ও চিনি ছাড়া কফিই তুলনামূলক ভালো বিকল্প বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদরা।
কফি পান করার সময় যে বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন
*দিনে ১–২ কাপ কফি বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সাধারণত পরিমিত ধরা হয়।
*অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম ফ্লেভার এড়িয়ে চলুন।
*রাতে ঘুমের আগে কফি পান করলে অনিদ্রার সমস্যা হতে পারে, তাই সন্ধ্যার পর ক্যাফিন গ্রহণ কমানো ভালো।
*উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থা বা বিশেষ শারীরিক সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কফি পান করুন।
পরিশেষে বলা যায়, কফি একা আয়ু বাড়িয়ে দেয়— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি। তবে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পরিমিত ব্ল্যাক কফি উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত মিলছে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.