জীবন মানেই উত্থান-পতন। কখনও কাজের চাপ, কখনও পারিবারিক টানাপোড়েন, আবার কখনও হঠাৎ নেমে আসা অপ্রত্যাশিত বিপদ—এই সব পরিস্থিতি মানুষের মানসিক স্থিরতা নড়িয়ে দেয়। বেশিরভাগ মানুষই এমন সময়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন, সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভুল করেন, কিংবা আবেগের বশে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেন। অথচ জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেই প্রয়োজন হয় ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিচার করার ক্ষমতা। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সব রাশির জাতক-জাতিকারা এই গুণে সমান নন। রাশিচক্রে এমন কিছু রাশি রয়েছে, যাঁরা স্বভাবতই চাপের মধ্যেও স্থির থাকতে পারেন। বাস্তব জীবনে তাঁরাই যেন অশান্তির ভিড়ে শান্তির আলোকবর্তিকা।
বৃষ
বৃষ রাশির মানুষরা জীবনে স্থায়িত্ব ও মানসিক শান্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। ছোটখাটো অশান্তি বা সাময়িক সমস্যায় তাঁরা সহজে বিচলিত হন না। তাঁদের বিশ্বাস, অযথা উত্তেজনা সমস্যার সমাধান করে না, বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই কোনও সংকট এলেই বৃষ রাশির জাতক-জাতিকারা ধীরে, সুস্থ মাথায় বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন। ঝগড়া, নাটক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলাই তাঁদের মানসিক স্থিরতার মূল শক্তি।
কর্কট
কর্কট রাশির মানুষ আবেগপ্রবণ হলেও তাঁদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সহানুভূতি ও মমত্ববোধ। কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁরা নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সমস্যার গভীরে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। রাগ বা বিরক্তির বদলে বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দেন। অশান্ত পরিবেশেও কী ভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়, সেই দক্ষতা কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাদের অন্যতম বড় গুণ।
কন্যা
পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণে পারদর্শী কন্যা রাশির মানুষরা তাড়াহুড়োকে একেবারেই পছন্দ করেন না। তাঁদের মতে, চাপের মুখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বড় ভুল। তাই কোনও সমস্যা এলেই তাঁরা ঠান্ডা মাথায় সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করেন। কোন পথে গেলে ক্ষতি কম হবে, কোন সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে উপকারী—এই বিচারবুদ্ধিই তাঁদের শান্ত রাখে।
মকর
মকর রাশির জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত বাস্তববাদী। তাঁরা জানেন, জীবনের পথে বাধা আসবেই। তাই সমস্যাকে ভয় না পেয়ে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করাই তাঁদের স্বভাব। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াকেই তাঁরা সাফল্যের চাবিকাঠি মনে করেন। চাপের মধ্যেও তাঁদের স্থিরতা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে।
আরও পড়ুন:শুক্রাদিত্য রাজযোগে উজ্জ্বল ভাগ্য: জানুয়ারিতেই বদলে যাবে ৩ রাশির জীবন
মীন
মীন রাশির মানুষরা জীবনের ওঠানামাকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করেন। ব্যর্থতা বা দুঃখে তাঁরা ভেঙে পড়েন না, বরং সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন। হাসিমুখে সমস্যার মোকাবিলা করা এবং মানসিক নমনীয়তা বজায় রাখাই তাঁদের শান্ত থাকার রহস্য।
জ্যোতিষ মতে, এই পাঁচ রাশির মানুষরা শুধু নিজেরাই চাপ সামলাতে পারেন না, বরং তাঁদের শান্ত স্বভাব আশপাশের মানুষকেও স্থির থাকতে সাহায্য করে। অশান্ত সময়েও এঁরাই বাস্তব জীবনের সত্যিকারের ‘শান্তির দূত’।