পাঁচ রোহিঙ্গা শরণার্থীর হেফাজতে থাকাকালীন নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রোহিঙ্গাদের এখনো শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সে কারণে তাঁদের নিয়ে ‘হেবিয়াস করপাস’ বা আইনি অধিকার দাবি তোলা আইনগতভাবে টেকসই নয়।
মামলাকারীর যুক্তি শোনার সময় প্রধান বিচারপতি জোর দিয়ে বলেন, “প্রথম তাঁরা বেআইনি ভাবে এ দেশে প্রবেশ করবেন—সুড়ঙ্গ দিয়ে কাঁটাতার পেরিয়ে। তারপর দাবি করবেন এই দেশের নাগরিকদের মতোই সব অধিকার! খাদ্য, বাসস্থান, সন্তানের শিক্ষা—সবটাই কি রাষ্ট্রকে দিতে হবে?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি লাল কার্পেট বিছিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানাব? আইনের পরিসর কি এভাবে টেনে বাড়িয়ে নেওয়া উচিত?”
দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের দেশেও অসংখ্য গরিব মানুষ রয়েছে। তাঁরাও এই দেশেরই নাগরিক। তাঁদের ন্যূনতম সুবিধা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তাহলে অবৈধভাবে দেশে ঢুকে পড়া ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্র কি অতিরিক্ত দায় নেবে?”
হেবিয়াস করপাসের আবেদন প্রসঙ্গে বিচারপতির মত, এই ধরনের আবেদন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ হেবিয়াস করপাসের মাধ্যমে আদালতকে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে সশরীরে হাজির করাতে হয়, যাতে বিচারক ঠিক করতে পারেন আটক প্রক্রিয়া আইনসম্মত কি না। কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এই আইনি রাস্তায় যাওয়াকে তিনি “কল্পনাপ্রসূত” বলে মন্তব্য করেন।
শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে রোহিঙ্গা প্রবেশ ও নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি মানবিক হলেও তার আইনি ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন্দ্র এখনও রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে তাঁদের অধিকার দাবি বা বিশেষ সুরক্ষা চাওয়া আইনে সরাসরি বৈধতা পায় না।
আরও পড়ুন
রাঁচীর সিএ নরেশ কেজরীওয়ালের ৯০০ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার, তিন রাজ্যে ইডির তল্লাশি
মামলার পরবর্তী ধাপে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশকারী বিদেশিদের হেফাজত, আইনানুগ প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের নিরাপত্তা, মানবিক দায় এবং আন্তর্জাতিক আইন—সবকিছু মিলিয়েই এখন এই মামলাকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে রোহিঙ্গা প্রশ্ন।
আরও পড়ুন
হাওড়া ডিভিশনে চার দিন একাধিক ট্রেন বাতিল, পরিবর্তিত রুটেও চলবে অনেক এক্সপ্রেস

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.