গরমের সময়ে ঘাম, ধুলোবালি, দূষণ এবং সূর্যের তীব্র তাপে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, নিষ্প্রাণ এবং অগোছালো। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই কেরাটিন ট্রিটমেন্ট বা হেয়ার স্মুদনিংয়ের সাহায্য নেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চুলের যত্নে নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সিস্টিন থেরাপি, যা অনেকের মতে কেরাটিনের তুলনায় আরও নিরাপদ এবং কার্যকর একটি বিকল্প।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের চুলের অধিকাংশ অংশই কেরাটিন নামের একটি প্রোটিন দিয়ে গঠিত। আর এই কেরাটিন তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সিস্টিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। চুলে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে তা দুর্বল, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। সিস্টিন থেরাপির মূল লক্ষ্য হল চুলে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের জোগান দিয়ে তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা।
এই থেরাপির ফলে চুল শুধু মসৃণ ও ঝকঝকে দেখায় না, বরং চুলের গঠনও শক্তিশালী হয়। যাঁদের চুল অতিরিক্ত ফ্রিজি, রুক্ষ বা আর্দ্র আবহাওয়ায় সহজেই এলোমেলো হয়ে যায়, তাঁদের জন্য এই ট্রিটমেন্ট বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

সিস্টিন থেরাপির প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। প্রথমে বিশেষ শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করা হয়। এরপর ভেজা চুলে সিস্টিন-সমৃদ্ধ প্রোটিন কমপ্লেক্স সমানভাবে লাগানো হয়। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেটি চুলে রেখে ব্লো-ড্রাইয়ের মাধ্যমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। তারপর স্ট্রেটনারের সাহায্যে চুলের প্রতিটি অংশে তাপ প্রয়োগ করা হয়, যাতে প্রোটিন চুলের ভেতরে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারে। শেষে প্রোটিনভিত্তিক শ্যাম্পু ও মাস্ক দিয়ে চুল ধুয়ে ফিনিশিং দেওয়া হয়।
সিস্টিন থেরাপির অন্যতম আকর্ষণ হল এতে সাধারণত ফর্মালডিহাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। ফলে রাসায়নিকজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এই কারণেই অনেকেই কেরাটিন ট্রিটমেন্টের পরিবর্তে সিস্টিন থেরাপিকে বেছে নিচ্ছেন।
তবে যে কোনও হেয়ার ট্রিটমেন্ট করানোর আগে অভিজ্ঞ পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ট্রিটমেন্টের পর উপযুক্ত হেয়ার কেয়ার রুটিন মেনে চললে ফল দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব।
চুলকে মসৃণ, উজ্জ্বল এবং সহজে সামলানো যায় এমন অবস্থায় রাখতে চাইলে সিস্টিন থেরাপি হতে পারে আধুনিক ও তুলনামূলক নিরাপদ একটি সমাধান।