বর্তমানে কিডনি বা পিত্তথলির পাথর শুধু বয়স্কদের সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই। অল্পবয়সিদের মধ্যেও এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, জল কম খাওয়ার অভ্যাস এবং খাদ্যতালিকায় অনিয়ম।
কেন তৈরি হয় কিডনিতে পাথর?
কিডনি আমাদের শরীরের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে ক্যালশিয়াম অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিডের মতো খনিজ জমে ছোট ছোট দানা তৈরি করে, যা পরে পাথরে পরিণত হয়।
পিত্তথলির পাথরের কারণ কী?
পিত্তথলির পাথর মূলত কোলেস্টেরল ও বিলিরুবিন জমার ফল। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা বা হঠাৎ ওজন কমানোর চেষ্টাও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। পাথর জমলে তীব্র পেটব্যথা, বমি ভাব এবং অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
কীভাবে মিলবে রেহাই?
১) পর্যাপ্ত জল পান
পাথর প্রতিরোধের প্রধান শর্তই হল প্রচুর জল পান করা। দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার জল শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
২) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত ওজন যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই দ্রুত ওজন কমানোও বিপজ্জনক। ক্র্যাশ ডায়েট এড়িয়ে নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
৩) নির্দিষ্ট সময়ে খাবার
দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে যকৃতে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পিত্তথলির পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রাতরাশ বাদ না দেওয়াই ভালো।
৪) খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
যাঁদের কিডনিতে পাথরের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত নুন, চিনি ও অক্সালেটযুক্ত খাবার (যেমন পালংশাক, বাদাম) নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
৫) স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া
লেবু জাতীয় ফল, টাটকা সবজি এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার পাতে রাখা দরকার। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও প্রসেসড মিট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
৬) প্রোটিন ও ফাইবারের ভারসাম্য
স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও পর্যাপ্ত ফাইবার শরীরের সামগ্রিক বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং পাথর জমার প্রবণতা কমায়।
উপসংহার
শরীরে পাথর জমার সমস্যা হঠাৎ করে তৈরি হয় না; দীর্ঘদিনের ভুল অভ্যাসই এর কারণ। তবে সুসংবাদ হলো, সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত জল পান, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস— এই তিনই হতে পারে সুস্থ জীবনের মূল মন্ত্র।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.