চোখের তলায় কালচে ছাপ বা ডার্ক সার্কল অনেকের কাছেই একটি সাধারণ সমস্যা। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াই এর একমাত্র কারণ। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের তলায় কালি পড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে এবং সেই কারণ অনুযায়ী এর ধরনও ভিন্ন হয়ে থাকে। ফলে সমস্যার প্রকৃত উৎস চিহ্নিত করতে পারলে সমাধানের পথও সহজ হয়।
অতিরিক্ত রঞ্জকের কারণে কালচে দাগ
অনেকের চোখের নিচে গাঢ় বাদামি বা কালো রঙের স্থায়ী ছাপ দেখা যায়। এটি সাধারণত ত্বকে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ বেশি তৈরি হলে ঘটে। বংশগত প্রবণতা, দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা, অ্যালার্জি কিংবা ত্বকের প্রদাহ এই ধরনের দাগের অন্যতম কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কালচে ভাব সাধারণত সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে।

চোখের নিচে গর্ত বা বসে যাওয়ার প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা হঠাৎ ওজন কমে গেলে চোখের নিচের চর্বির স্তর পাতলা হয়ে যেতে পারে। ফলে সেখানে গভীরতা বা গর্তের মতো অবস্থা তৈরি হয়। এতে আলো-ছায়ার প্রভাবে চোখের নিচের অংশ আরও কালচে দেখায়। অনেক সময় এটি প্রকৃত দাগ নয়, বরং ছায়ার বিভ্রম। মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন করলে বা উপরের দিকে তাকালে এই কালচে ভাব কিছুটা কমে যেতে পারে।
ত্বকের স্বাভাবিক রঙের পার্থক্য
কিছু মানুষের মুখের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকভাবেই রঙের ভিন্নতা থাকে। বিশেষ করে চোখের নিচ ও গালের মাঝামাঝি অঞ্চলে একটি স্পষ্ট রেখা দেখা যেতে পারে, যা ডার্ক সার্কল বলে মনে হয়। যদিও এটি সবসময় কোনও রোগ বা ত্বকের সমস্যা নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, হরমোনের পরিবর্তন বা কিছু প্রসাধনীর ব্যবহার এই পার্থক্যকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে পারে।
বয়সজনিত সূক্ষ্ম ভাঁজ ও ছায়া
ত্বকের কোলাজেন কমতে শুরু করলে চোখের নিচে সূক্ষ্ম রেখা ও ভাঁজ তৈরি হয়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়। ভাঁজের কারণে আলো সমানভাবে প্রতিফলিত হতে পারে না, ফলে সেখানে ছায়া পড়ে এবং ডার্ক সার্কলের মতো দেখায়। অনেকেই এটিকে ত্বকের রঙের সমস্যা বলে মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বয়সজনিত পরিবর্তনের অংশ।
দৃশ্যমান রক্তনালির প্রভাব
চোখের নিচের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা। তাই অনেক সময় ত্বকের নিচের রক্তনালি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে হালকা নীলচে, বেগনি বা গোলাপি আভা দেখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, ক্লান্তি, জলশূন্যতা কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে এই রং আরও বেশি চোখে পড়ে। যাদের ত্বক তুলনামূলক ফর্সা, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দৃশ্যমান হয়।
একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অনেকের ক্ষেত্রে চোখের তলার কালি একটি মাত্র কারণে হয় না। ত্বকের রঞ্জকতা, বয়সজনিত পরিবর্তন, রক্তনালির দৃশ্যমানতা এবং জীবনযাপনের অভ্যাস—সবকিছু মিলিয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শুধুমাত্র ঘুম বাড়ালেই সব ক্ষেত্রে সমাধান পাওয়া যায় না।
কী করবেন?
চোখের তলায় কালি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা দ্রুত বাড়তে থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা বা ত্বকের যত্নের পরিকল্পনা গ্রহণ করলে সমস্যার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.