পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ নখ শুধু হাতের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ব্যক্তিগত পরিচর্যারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু অনেকেরই নখ খুব সহজে ভেঙে যায়, রং ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে বা নখের চারপাশে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত পার্লারে গিয়ে পরিচর্যা করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে ঘরেই কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে নখকে অনেকটাই সুস্থ ও মজবুত রাখা সম্ভব।
শুষ্ক ও ভঙ্গুর নখে আর্দ্রতার যত্ন জরুরি
অতিরিক্ত সাবান, ডিটারজেন্টের ব্যবহার বা শরীরে পানির ঘাটতির কারণে নখ শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় অলিভ অয়েল ও মধুর মিশ্রণ উপকারী হতে পারে। হালকা গরম জলে সামান্য অলিভ অয়েল ও মধু মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট নখ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর নখ ও কিউটিকলের চারপাশে আলতো করে মালিশ করুন। সপ্তাহে কয়েকবার এই যত্ন নিলে নখের শুষ্কতা কমতে পারে।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ব্যবহারেও মিলতে পারে উপকার
সমপরিমাণ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ও জল মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করে তাতে ১০-১৫ মিনিট নখ ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে নখ আরও শক্ত হতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি হালকা সংক্রমণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।
ছত্রাকের সংক্রমণ হলে কী করবেন?
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় হাত বা পায়ের নখে ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এতে নখের রং বদলে যেতে পারে বা নখের চারপাশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে খাঁটি নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে বা নখের রং ও গঠন দ্রুত বদলে গেলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
নখ ভালো রাখতে আরও কিছু অভ্যাস
*পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
*প্রোটিন, বায়োটিন, আয়রন ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খান।
*বাসন ধোয়া বা পরিষ্কারের সময় সম্ভব হলে গ্লাভস ব্যবহার করুন।
*নখ অতিরিক্ত লম্বা না রেখে নিয়মিত ছেঁটে পরিষ্কার রাখুন।
*খুব বেশি নেইল পলিশ রিমুভার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
সামান্য নিয়ম মেনে চলা এবং ঘরোয়া পরিচর্যার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই নখের ভঙ্গুরতা, শুষ্কতা ও ফ্যাকাশে ভাব কমানো সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে নখের রং বদলে যাওয়া, বারবার ভেঙে যাওয়া বা ব্যথা-ফোলা দেখা দিলে তা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.