পেশায় তাঁরা সাধারণ কৃষক। প্রতিদিনের মতোই নিজেদের চাষের জমিতে কাজ করছিলেন দু’জন। ফসল ফলানোর প্রস্তুতিতে মাটি কোপানো ছিল তাঁদের রোজকার রুটিনেরই অংশ। কিন্তু সেই সাদামাটা দিনের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক অসাধারণ চমক।
চাষের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎই তাঁদের মনে হয়, মাটির নিচে কিছু শক্ত জিনিস রয়েছে। কৌতূহলবশত তাঁরা আরও কিছুটা মাটি সরাতেই চোখে পড়ে একটি পুরনো সেরামিকের ঘড়া। ঘড়াটি খুলতেই সামনে আসে ইতিহাসের এক বিস্ময়—ভর্তি রৌপ্যমুদ্রা।
গুনে দেখা যায়, ওই ঘড়ার ভিতরে মোট ১৬২টি রৌপ্যমুদ্রা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুদ্রাগুলি ১৬৬০ থেকে ১৬৮০ সালের মধ্যে প্রচলিত ছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এত বছর মাটির নিচে থাকার পরেও কয়েনগুলির অবস্থা অত্যন্ত ভালো। অধিকাংশ মুদ্রাই প্রায় অক্ষত রয়েছে।
এই মুদ্রাগুলি কোনও স্মারক বা প্রতীকী কয়েন নয়। সেগুলি ছিল তৎকালীন দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত প্রকৃত মুদ্রা। আরও জানা গিয়েছে, সব কয়েনের মূল্যমান এক নয়—বিভিন্ন ধরনের ও মূল্যমানের রৌপ্যমুদ্রা পাওয়া গেছে এই ভাণ্ডারে।
শুধু কয়েনই নয়, ঘড়ার আশপাশ থেকে আরও বেশ কিছু ১৭শ শতকের ব্যবহার্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই সমস্ত নিদর্শন মিলিয়ে ১৬৫০ সালের পর পোল্যান্ডের ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এই ঐতিহাসিক গুপ্তধন উদ্ধার হয়েছে পোল্যান্ডের বাকোয়েক উইকি এলাকায়। দুই কৃষকের গুপ্তধন পাওয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পোল্যান্ডের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দ্রুত ওই চাষের জমি ঘিরে ফেলে। শুরু হয় পরিকল্পিত খননকার্য।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সমস্ত কয়েন ও সামগ্রী প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, এই আবিষ্কার পোল্যান্ডের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে আলোয় তুলে ধরবে এবং ১৭শ শতকের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.