দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে হামলা, বেআইনি জমায়েত, পথ অবরোধ এবং অশালীন আচরণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবুও সোনারপুর থানার পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, এলাকায় পৌঁছনোর পরই একদল বিক্ষুব্ধ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ‘চোর চোর’ স্লোগানও শোনা যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে অভিষেককে মাথায় হেলমেট পরতে দেখা যায়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনায় তাঁর পোশাকও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গিয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় তাঁকে নিরাপদে এলাকা থেকে বের করে আনা হয়।
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর উপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সফরের খবর আগে থেকেই জানত বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। হামলার ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন।
এদিকে তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন ভিডিয়ো ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।
হামলার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যথাসময়ে পৌঁছতে পারেনি। তাঁদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হত না।
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পৌঁছন। পরে চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু অসন্তোষের কারণে তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও দ্বিতীয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁকে ভর্তি করার মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা ধরা পড়েনি। শেষ পর্যন্ত রাতে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, হামলার ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুকে আঘাত লেগেছে এবং শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দলটির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত কিছু ভিডিয়োতে কয়েক জন অভিযুক্তের সঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য যোগাযোগের অভিযোগও তোলা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’-র একাধিক নেতা হামলার নিন্দা করেছেন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হামলার নেপথ্যের কারণ এবং আরও কারও জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.