বছরের শুরুতেই বাঙালি জীবনে এক বিশেষ উৎসব—সরস্বতী পুজো। জ্ঞান, বিদ্যা, বুদ্ধি ও শিল্পকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সরস্বতী এই দিনে ঘরে ঘরে পূজিত হন। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো পালিত হবে। পুজোর আগে অনেকের মনেই প্রশ্ন—কারা মা সরস্বতীর বিশেষ কৃপাধন্য?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে কিছু কিছু রাশির জাতকরা স্বভাবতই বিদ্যা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় এগিয়ে থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, এই চার রাশির উপর মা সরস্বতীর আশীর্বাদ বিশেষভাবে বর্ষিত হয়। জেনে নেওয়া যাক সেই রাশিগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত।
মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতকদের উপর দেবী সরস্বতীর বিশেষ কৃপা থাকে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল, যা সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক। নিজের পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তির জোরে মেষ রাশির জাতকরা শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় সহজেই সাফল্য পান। তবে রাগ ও কথাবার্তায় সংযম রাখলে তাঁদের উন্নতির পথ আরও প্রশস্ত হয়।
বৃষ রাশি
বৃষ রাশির অধিপতি গ্রহ শুক্র। এই রাশির জাতকরা যেমন লক্ষ্মীর কৃপা পান, তেমনই মা সরস্বতীর আশীর্বাদেও ধন্য হন। অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী হওয়ায় এঁরা একাগ্রতার সঙ্গে পড়াশোনা বা শিল্পচর্চায় মন দিতে পারেন। সরস্বতীর কৃপায় বৃষ রাশির জাতকদের বুদ্ধিমত্তা ও শেখার ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয়।
কর্কট রাশি
চন্দ্রের অধীন কর্কট রাশির জাতকদের মন সংবেদনশীল ও সৃজনশীল হয়। জ্যোতিষ মতে, মা সরস্বতী এই রাশির জাতকদের প্রতি বিশেষভাবে প্রসন্ন থাকেন। ফলে শিক্ষা, সাহিত্য, সংগীত বা শিল্পক্ষেত্রে এঁরা সহজেই নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেন। আবেগ ও কল্পনাশক্তি তাঁদের বড় শক্তি হয়ে ওঠে।
মিথুন রাশি
বুধ গ্রহের অধিপত্যে থাকা মিথুন রাশি জ্ঞান ও বুদ্ধির প্রতীক। মা সরস্বতীর কৃপাদৃষ্টিতে এই রাশির জাতকরা বিদ্যা, শিক্ষা ও শিল্পকলায় বড় সাফল্য অর্জন করেন। বিশেষ করে তাঁদের বাচনভঙ্গি ও যোগাযোগ দক্ষতা অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়। শিক্ষকতা, লেখালেখি, সাংবাদিকতা বা সৃজনশীল পেশায় মিথুন রাশির জাতকরা সহজেই প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মেষ, বৃষ, কর্কট ও মিথুন—এই চার রাশির জাতকরা মা সরস্বতীর বিশেষ আশীর্বাদপ্রাপ্ত বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। সরস্বতী পুজোর দিনে ভক্তিভরে আরাধনা করলে শিক্ষা, বিদ্যা ও বুদ্ধিতে আরও উন্নতির পথ খুলে যেতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস করেন জ্যোতিষীরা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.