বিয়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি নথিতে তথ্য আপডেট করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। আধার কার্ড এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র, যা ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, পাসপোর্ট, রেশন কার্ড, বিমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রায় সব সরকারি ও বেসরকারি কাজেই প্রয়োজন হয়। তাই বিয়ের পর যদি আধার কার্ডে স্বামীর নাম যুক্ত না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এই কারণেই সময়মতো আধার কার্ডে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
UIDAI বা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া আধার কার্ডের ডেমোগ্রাফিক তথ্য আপডেট করার সুযোগ দেয়। এর মধ্যেই রয়েছে স্বামীর নাম যুক্ত করার সুবিধা। তবে এই আপডেটের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও নথি থাকা আবশ্যক।
প্রথমেই জানা দরকার, আধার কার্ডে স্বামীর নাম যুক্ত করতে হলে বৈধ ম্যারেজ সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি আবেদনকারীর নিজের আধার কার্ড এবং স্বামীর আধার কার্ডও প্রয়োজন হবে। ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। এছাড়া, আধার কার্ডের সঙ্গে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ আপডেট সংক্রান্ত তথ্য ও OTP এই নম্বরেই পাঠানো হয়।
কীভাবে আধার কার্ডে স্বামীর নাম যুক্ত করবেন?
এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধাপেই সম্পন্ন করতে হয়।
প্রথমে UIDAI-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট uidai.gov.in-এ যেতে হবে।
সেখানে ‘Appointment’ অপশনে ক্লিক করে ‘Book an Appointment’ নির্বাচন করতে হবে।
এরপর নিজের কাছাকাছি আধার সেবা কেন্দ্র বেছে নিয়ে সুবিধাজনক তারিখ ও সময় নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে।
নির্ধারিত দিনে আধার সেবা কেন্দ্রে গিয়ে আধার আপডেট বা কারেকশন ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। সেই ফর্মে স্বামীর নাম সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথির কপি জমা দিতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে আপডেট স্ট্যাটাস জানার জন্য কাজে লাগবে।
এই পরিষেবার জন্য ৫০ টাকা ফি দিতে হয়। সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার পর ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আধার কার্ডে তথ্য আপডেট হয়ে যায়। আপডেট সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা UIDAI-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে যাচাই করা যায়।
সব মিলিয়ে, বিয়ের পর আধার কার্ডে স্বামীর নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া খুব একটা জটিল নয়। প্রয়োজনীয় নথি ঠিক থাকলে এবং সঠিকভাবে আবেদন করলে সহজেই এই আপডেট করা সম্ভব। সময়মতো তথ্য সংশোধন করে রাখলে ভবিষ্যতের নানা সরকারি কাজ অনেকটাই ঝামেলামুক্ত হবে।