সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও। পশ্চিম এশিয়ায় চলা অস্থিরতা ও যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক এলপিজি আমদানি ও সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাসের ঘাটতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে হোটেল, রেস্তরাঁ, ধাবা এবং ছোট খাবারের দোকানগুলির ব্যবসা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংকট কিছুটা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী সোমবার ২৩ মার্চ থেকে রাজ্যগুলির জন্য এলপিজি সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল সব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত সরবরাহ শুরু হলে ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হওয়া গ্যাসের ঘাটতি কমতে পারে।
সরকারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাণিজ্যিক এলপিজি-র অভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন খাদ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। অনেক ছোট হোটেল ও খাবারের দোকান রান্নার জন্য নিয়মিত গ্যাস না পেয়ে সমস্যায় পড়ছে। তাই নতুন নির্দেশে এই ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে, যাতে তাদের দৈনন্দিন কাজ বন্ধ হয়ে না যায়।
এছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার বিষয়েও আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক শ্রমিক বড় সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারেন না বা বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়। তাই পাঁচ কেজির ছোট সিলিন্ডারের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন নির্মাণক্ষেত্র বা শ্রমঘন এলাকায় কাজ করা মানুষদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে গ্যাসের ঘাটতি ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া বা কালোবাজারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। তাই কেন্দ্র রাজ্য সরকারগুলিকে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। কোথাও যাতে মজুতদারি বা বেআইনি দামে গ্যাস বিক্রির ঘটনা না ঘটে, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সরকারের মতে, ২৩ মার্চ থেকে সরবরাহ বাড়ানো শুরু হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে ফিরতে পারে। তবে অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, বাস্তবে বাজারে পর্যাপ্ত গ্যাস পৌঁছনোর পরই পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নতি বোঝা যাবে। তবু কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসা ও খাদ্য পরিষেবা খাত কিছুটা আশার আলো দেখছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকলেও অতিরিক্ত সরবরাহ ও নজরদারি জোরদার করার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে
আরও পড়ুন :আমেরিকা থেকে LPG এনে জ্বালানি সঙ্কট সামলাতে ভারতের প্ল্যান B

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.