দেশে রুপো আমদানির উপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন পর্যন্ত রুপো আমদানির ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন ছিল না। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে বিদেশ থেকে রুপো আনতে হলে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। অর্থাৎ, রুপোকে ‘মুক্ত আমদানি’ তালিকা থেকে সরিয়ে ‘সীমাবদ্ধ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তার কারণে কেন্দ্র আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। জ্বালানি ও সারের মতো অত্যাবশ্যক পণ্যের আমদানির জন্য যাতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা মজুত থাকে, সেই লক্ষ্যেই সোনা ও রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুর আমদানি নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশে রুপো আমদানির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতে রুপো আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫৭ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। গত এপ্রিলে প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলারের রুপো আমদানি করা হয়েছে, যেখানে এক বছর আগে সেই অঙ্ক ছিল প্রায় ১৬০ মিলিয়ন ডলার।
শুধু রুপো নয়, সোনার আমদানিও গত অর্থবর্ষে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের স্বর্ণ আমদানি ২৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রুপোর আমদানিও প্রায় দেড়গুণ বেড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারের উপরে দাঁড়িয়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ আরও বাড়ছে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক মহল।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র আগে থেকেই সোনা ও রুপোর আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সম্প্রতি দেশবাসীর কাছে এক বছরের জন্য সোনা-রুপো কেনা কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। সরকারের ধারণা, মূল্যবান ধাতুর অতিরিক্ত আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে ৬৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মজুত রয়েছে, যা প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তবুও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার সম্ভাবনা মাথায় রেখে কেন্দ্র কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.