গ্রীষ্মের দাবদাহে ঘাম হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলতে পারে পায়ের ঘাম এবং সেই থেকে তৈরি হওয়া জুতোর দুর্গন্ধ। দীর্ঘ সময় বন্ধ জুতোর ভিতরে ঘাম জমে থাকলে সেখানে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। ফলস্বরূপ, জুতো খুললেই ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ। অনেক সময় জনসমক্ষে এই সমস্যার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়।
শুধু সাবান বা সুগন্ধি ব্যবহার করলেই যে এই সমস্যা মেটে, তা নয়। বরং ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় নিয়মিত মেনে চললে জুতোর দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রান্নাঘরে থাকা সাধারণ বেকিং সোডাই এ ক্ষেত্রে হতে পারে দারুণ কার্যকর একটি উপাদান।
কীভাবে ব্যবহার করবেন বেকিং সোডা?

প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে, জুতোর ভিতর সম্পূর্ণ শুকনো রয়েছে। এরপর অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা জুতোর ভিতরে ছড়িয়ে দিন। অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ বেশি সোডা জমে থাকলে পরে হাঁটার সময় অস্বস্তি হতে পারে।
সোডা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে জুতো ব্যবহার না করে সেটি সারা রাত রেখে দিতে হবে। এতে জুতোর ভিতরে জমে থাকা আর্দ্রতা কমে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা হ্রাস পায়। সময় বেশি দিলে ফলও ভালো পাওয়া যায়।
পরদিন জুতো ভালোভাবে ঝেড়ে সোডা বের করে ফেলুন। কাপড় দিয়ে মুছতে গেলে সোডা ভিতরে লেগে থাকতে পারে, তাই বারবার টোকা দিয়ে পরিষ্কার করাই ভালো। এরপর কিছুক্ষণ রোদে রেখে দিলে দুর্গন্ধ আরও দ্রুত দূর হয়।
সহজ বিকল্প উপায়
যাঁদের সরাসরি জুতোর ভিতরে সোডা ছড়াতে অসুবিধা হয়, তাঁরা নরম কাপড়ে বেকিং সোডা বেঁধে ছোট পুঁটুলি তৈরি করতে পারেন। সেটি জুতোর ভিতরে রেখে সারা রাত রাখলেও একই রকম উপকার মেলে।
শুধু জুতো নয়, যত্ন নিন পায়েরও
জুতোর দুর্গন্ধ দূর করতে হলে পায়ের পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বাইরে থেকে ফিরে গরম জলে পা ধোয়ার অভ্যাস উপকারী। পায়ের আঙুলের ফাঁকে পাতিলেবু ঘষলে জীবাণু কমতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া স্নানের পর পা ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে ভেজা ফিটকিরি পায়ের পাতা ও আঙুলের ফাঁকে লাগানো যেতে পারে। এতে ঘামের গন্ধ কমে এবং দীর্ঘ সময় পা সতেজ থাকে। নিয়মিত যত্ন নিলে গরমেও জুতোর দুর্গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হবে না।