সনাতন ধর্মে একাদশী তিথির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের জয়া একাদশী আধ্যাত্মিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালে এই পবিত্র তিথি পড়েছে ২৯ জানুয়ারি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ভগবান বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর পুজো করলে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে উপোস পালন করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয়।
শাস্ত্র মতে, জয়া একাদশীর উপোস পাপক্ষয় করে এবং ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভে সহায়ক হয়। বিশেষ করে এই দিনে তুলসী গাছের সঙ্গে যুক্ত কিছু নিয়ম পালন করলে দেবী লক্ষ্মী প্রসন্ন হন বলে বিশ্বাস করা হয়। ফলে আর্থিক সমস্যা, মানসিক অশান্তি ও নেতিবাচক শক্তি দূর হতে পারে।
আর্থিক সংকট কাটাতে তুলসী প্রদীপ
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য জয়া একাদশীতে একটি সহজ প্রতিকার উল্লেখ করা হয়েছে। এই দিনে তুলসী গাছের সামনে খাঁটি ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে হবে। প্রদীপ জ্বালানোর পর সাত বা এগারোবার তুলসী গাছ প্রদক্ষিণ করলে আর্থিক বাধা কাটে এবং আয়ের নতুন পথ খুলে যেতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস।
ধন-সম্পত্তি বৃদ্ধির বিশেষ নিয়ম
ধনলাভের আশায় জয়া একাদশীর রাতে একটি বিশেষ নিয়ম পালন করার কথা বলা হয়। ভগবান বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর পায়ের কাছে পাঁচটি কড়ি অর্পণ করতে হবে। পরের দিন সেই কড়িগুলি হলুদ কাপড়ে মুড়ে আলমারিতে রেখে দিলে আর্থিক স্থিতি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় বলে ধারণা।
নৈবেদ্যে তুলসী পাতা অপরিহার্য
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু তুলসী পাতা ছাড়া নৈবেদ্য গ্রহণ করেন না। তাই জয়া একাদশীতে বিষ্ণুকে দেওয়া ভোগে অবশ্যই তুলসী পাতা রাখা উচিত। এতে ঘরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে বলে মনে করা হয়।
নেতিবাচক শক্তি দূর করার উপায়
বাড়ির পরিবেশ শুদ্ধ রাখতে জয়া একাদশীর রাতে প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি বা ছবির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে তা সারা রাত জ্বালিয়ে রাখার প্রথা রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এতে ঘর থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে।
সব মিলিয়ে, ভীম বা জয়া একাদশী শুধু উপোসের দিন নয়—বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে ছোট্ট কিছু নিয়ম পালন করলেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে, এমনটাই মনে করেন ধর্মবিশ্বাসীরা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.