হুগলিতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সভা থেকে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে হলে প্রত্যেককে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এবং সংগঠনের শক্তি অটুট রাখতে হবে।
এই সভায় তিনি তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল NCPI-তে যোগ দেওয়া একাধিক প্রাক্তন নেতা-সাংসদের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতার নাম উঠে আসে। তাঁদের উদ্দেশে কল্যাণের অভিযোগ, দল ছেড়ে যাওয়া মানেই সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।
সবচেয়ে বেশি আক্রমণের মুখে পড়েন অভিনেত্রী তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের কটাক্ষ “এই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছে, শুধু কি তৃণমূলের জন্য জিতেছি? আমি তো আমার জন্যও জিতেছি। বলি শুনুন, আপনার কোনও দাম নেই। অভিনেত্রী দিদি নম্বর ১ বলে লোকে দাঁড়িয়ে ভিড় করে দেখতে গিয়েছিল। ভগবানের কী খেলা। পাপ করলে পাপের ফল দিতে হবে। দিদি নম্বর ওয়ান থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে। আবার তখন বলছে ওরা ভদ্রতা জানে না। আরে তুমি কোন ভদ্রতা জানো হে? তুমি বিশ্বাসঘাতক।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, সাংসদ হিসেবে রচনা হুগলির মানুষের সঙ্গে যথেষ্ট যোগাযোগ রাখেননি। তাঁর বক্তব্য, এলাকার উন্নয়নের কথা বললেও দীর্ঘ সময় তিনি সংসদীয় এলাকায় উপস্থিত থাকতেন না। এমনকি হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার নামও তিনি বলতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পরিবর্তে রচনার রাজনৈতিক ব্যস্ততা সীমাবদ্ধ ছিল কলকাতা, দিল্লি এবং দলীয় কর্মসূচির মধ্যেই।
প্রসঙ্গত, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর চুঁচুড়ার তৎকালীন বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিভিন্ন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে দু’জনকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন। কখনও যৌথভাবে বৈঠক করে, কখনও আলাদা করে বুঝিয়ে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর সেই সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। হুগলির সাম্প্রতিক সভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায় দলের প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদারকে। অন্যদিকে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তৃণমূলের অন্দরের বদলে যাওয়া সম্পর্কেরই ইঙ্গিত বহন করছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরাসরি আক্রমণ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.