পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির সংঘাত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকতেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এবং রাজ্যে আতঙ্কের আবহ তৈরি করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে কুণাল ঘোষ বলেন, নির্বাচনের আগে বিজেপির বহু শীর্ষ নেতা পশ্চিমবঙ্গে এসে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, যদি রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে সেই মন্তব্যগুলিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে কেন্দ্রের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি অভিযান প্রসঙ্গে
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট সক্ষম এবং এই বিষয়ে তাঁর আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই।
বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি দলত্যাগী ও বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত একাধিক তৃণমূল সাংসদের নাম লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা পড়ার ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, যদি কোনও সাংসদ দল থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে চান, তাহলে তাঁরা কেন এখনও সাংসদ পদে বহাল থাকতে চান?
তাঁর বক্তব্য, যাঁরা তৃণমূলের প্রতীক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব হওয়া উচিত পদত্যাগ করা। তিনি অতীতে রাজ্যসভার কয়েকজন সদস্যের পদত্যাগের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই পথই অনুসরণ করা উচিত।
কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জল্পনা খারিজ
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্ভাব্য একীভূত হওয়ার জল্পনাও রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, দুটি দলই নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠন নিয়ে আলাদা সত্তা হিসেবে কাজ করছে।
তিনি জানান, বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করলেও তার অর্থ এই নয় যে দলগুলির সাংগঠনিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই বিরোধী শক্তিকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে।
সাংসদদের তালিকা ঘিরে চর্চা
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, মে মাসে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ স্পিকারের দপ্তরে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই তালিকায় বর্তমান ও প্রাক্তন পরিচিত মুখদের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিধায়কদের একাংশের অবস্থান
এদিকে দলের বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কয়েক ডজন বিধায়ক প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, দলের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। এমনকি তাঁরা নিজেদের গোষ্ঠীকেই প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করেছেন বলেও খবর।
সব মিলিয়ে FIR বিতর্ক, সাংসদদের বিদ্রোহ, বিধায়কদের অবস্থান এবং বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ—এই চারটি বিষয় এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী দিনে এই ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.