বাজারে ঝড়! সেনসেক্স লাফাল ১৭০০ পয়েন্ট

সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে ভারতীয় শেয়ার বাজারে দেখা গেল শক্তিশালী উত্থান। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার জেরে শুক্রবার বাজারের প্রধান সূচকগুলি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে। দিনের শেষে সেনসেক্স প্রায় ১,৭০০ পয়েন্ট এগিয়ে যায়, অন্যদিকে নিফটি ২৩,৬০০-এর উপরে অবস্থান করে লেনদেন শেষ করে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বিশ্ববাজারের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারেও পড়েছে। ফলে বিভিন্ন খাতে শেয়ার কেনার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

নিফটির অন্তর্ভুক্ত একাধিক বড় সংস্থা এদিন বাজারকে উপরের দিকে টেনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আর্থিক পরিষেবা, অবকাঠামো, বিমান পরিবহণ এবং ব্যাংকিং খাতের বেশ কিছু সংস্থার শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা যায়। বিশেষভাবে নজরে ছিল শ্রীরাম ফিন্যান্স, এলঅ্যান্ডটি, ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন, বাজাজ ফিন্যান্স এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক।

তবে সব শেয়ার একইভাবে লাভের মুখ দেখেনি। কিছু সংস্থার শেয়ার তুলনামূলক দুর্বল পারফরম্যান্স করেছে। এদিন নেসলে ইন্ডিয়া, ওএনজিসি, টেক মাহিন্দ্রা, পাওয়ার গ্রিড এবং এসবিআই লাইফের শেয়ারে চাপ লক্ষ্য করা যায়।

খাতভিত্তিক চিত্রও ছিল বেশ ইতিবাচক। তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাত বাদ দিলে প্রায় সব প্রধান সূচকই লাভের সঙ্গে দিন শেষ করেছে। কনজিউমার ডিউরেবলস, রিয়্যাল এস্টেট, টেলিকম, ব্যাংকিং, অটোমোবাইল, মিডিয়া, তেল ও গ্যাস এবং ধাতু শিল্পের শেয়ারগুলিতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই সূচকগুলি ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ শেয়ারগুলির শক্তিশালী পারফরম্যান্স। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক উভয়ই ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণত বাজারে আত্মবিশ্বাস বাড়লে মাঝারি ও ছোট সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

এদিন কয়েকটি পৃথক শেয়ারও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এমএমটিসি-র শেয়ারের দাম ১১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। আইএফসিআই প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান দেখায়। পাশাপাশি ভোডাফোন আইডিয়া, অথাম ইনভেস্টমেন্ট, আভাস ফাইন্যান্সিয়ার্স এবং নেটওয়েব টেকনোলজিসের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।

বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাণ, আর্থিক পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সংস্থাগুলির শেয়ারেও শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান রেকর্ড করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অপরিশোধিত তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলারের নিচে নেমে আসায় আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য তা ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে মুদ্রাস্ফীতি ও আমদানি ব্যয়ের উপর চাপ কিছুটা কমতে পারে, যা বাজারের মনোভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শেষ দিনে ভারতীয় শেয়ার বাজারে জোরালো প্রত্যাবর্তন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা, তেলের দামে স্বস্তি এবং বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্রয়চাপ বাজারকে শক্ত ভিত দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উপর নজর থাকবে, কারণ সেগুলিই বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Disclaimer: সংবাদ ভবন কখনও কোথাও বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় না। বাজারে বিনিয়োগ একটি ঝুঁকিসাপেক্ষ বিষয়। তাই বিনিয়োগের পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক