বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহ-নক্ষত্রের নির্দিষ্ট অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে নানা যোগের সৃষ্টি হয়। এই যোগগুলির মধ্যে কিছু জীবনে বাধা ও চ্যালেঞ্জ আনে, আবার কিছু যোগ সৌভাগ্য, সাফল্য ও সমৃদ্ধির দ্বার খুলে দেয়। তেমনই এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও শুভ রাজযোগ হল লক্ষ্মী যোগ। নামেই ইঙ্গিত—এই যোগের সঙ্গে ধনসম্পদ, আর্থিক স্থিতি, সামাজিক মর্যাদা এবং জীবনের বস্তুগত সুখের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
লক্ষ্মী যোগ গঠিত হলে জাতক নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেন। তবে এই যোগ অলৌকিক ভাবে ধন এনে দেয়—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। লক্ষ্মী যোগ মূলত সুযোগ তৈরি করে, সেই সুযোগকে কাজে লাগানো নির্ভর করে জাতকের কর্ম, শিক্ষা ও সিদ্ধান্তের উপর।
কী ভাবে রাশিচক্রে লক্ষ্মী যোগ গঠিত হয়?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী লক্ষ্মী যোগ গঠনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, জন্মকুণ্ডলীর প্রথম ঘরের অধিপতি (লগ্নেশ) এবং নবম ঘরের অধিপতি (ভাগ্যেশ)–এর মধ্যে শুভ সম্পর্ক থাকতে হবে। নবম ঘর ভাগ্য, ধর্ম ও সৌভাগ্যের প্রতীক, আর প্রথম ঘর জাতকের নিজস্ব শক্তি ও ব্যক্তিত্ব নির্দেশ করে।
নবম ঘরের অধিপতি যদি কেন্দ্র (১, ৪, ৭, ১০) অথবা ত্রিকোণ (১, ৫, ৯) স্থানে অবস্থান করেন, তবে লক্ষ্মী যোগের ভিত্তি দৃঢ় হয়। এই যোগ আরও শক্তিশালী হয় যদি নবম ঘরের অধিপতি এবং শুক্র—যিনি বিলাস, ঐশ্বর্য ও বস্তুগত সুখের কারক—নিজস্ব বা উচ্চ রাশিতে অবস্থান করেন। একই সঙ্গে বৃহস্পতি, যিনি জ্ঞান, নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক, শুভ অবস্থানে থাকলে লক্ষ্মী যোগ পূর্ণতা লাভ করে।
তবে যদি সংশ্লিষ্ট অধিপতি গ্রহগুলি ষষ্ঠ, অষ্টম বা দ্বাদশ ঘরে অবস্থান করে, তাহলে অর্থনৈতিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ যোগ থাকলেও তার ফল পেতে দেরি বা সংগ্রাম দেখা দিতে পারে।
পরিশ্রম ছাড়া ফল নয়
অনেকে মনে করেন লক্ষ্মী যোগ থাকলে শিক্ষা বা কঠোর পরিশ্রম ছাড়াই ধনসম্পদ অর্জন সম্ভব। বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। লক্ষ্মী যোগ কখনও অলসতার পুরস্কার দেয় না। এটি মূলত একটি অনুঘটক—যা সুযোগ এনে দেয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে পরিশ্রম, দক্ষতা ও ধৈর্য অপরিহার্য। নিষ্ক্রিয় হলে এই যোগ নিষ্ফল হয়ে যেতে পারে।
লক্ষ্মী যোগের শুভ ও অশুভ প্রভাব
কোনও যোগের অস্তিত্ব আর তার ফল এক বিষয় নয়। লক্ষ্মী যোগের ফল নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট গ্রহগুলির শক্তি ও শুভতা উপর। যদি প্রথম ও নবম ঘরের অধিপতি উভয়ই শুভ অবস্থানে থাকে এবং অশুভ গ্রহের দৃষ্টিমুক্ত থাকে, তাহলে যোগ পূর্ণ ফল দেয়—অর্থনৈতিক সাফল্য, সামাজিক প্রতিপত্তি ও স্থায়ী সমৃদ্ধি আসে।
কিন্তু যদি একটি গ্রহ শুভ এবং অন্যটি আংশিকভাবে পীড়িত হয়, তাহলে যোগের ফল হ্রাস পায়। আর যদি উভয় গ্রহই দুর্বল রাশিতে থাকে বা অশুভ গ্রহের প্রভাবে আক্রান্ত হয়, তাহলে লক্ষ্মী যোগ থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সুফল মেলে না।
উদাহরণস্বরূপ, যদি মঙ্গল মেষ রাশিতে এবং বৃহস্পতি ধনু রাশির দশম ঘরে অবস্থান করেন, তবে লক্ষ্মী যোগ গঠিত হয়। কিন্তু এই গ্রহগুলি যদি শত্রু গ্রহের দৃষ্টিতে থাকে বা দুর্বল নক্ষত্রে অবস্থান করে, তবে ফল বদলে যেতে পারে। বিপরীতে, যদি তারা মঘা বা ভরণীর মতো অনুকূল নক্ষত্রে এবং শক্তিশালী নবমাংশে থাকে, তাহলে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী লক্ষ্মী যোগে পরিণত হয়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, লক্ষ্মী যোগ নিঃসন্দেহে এক শুভ ও শক্তিশালী রাজযোগ। তবে এর পূর্ণ ফল পেতে হলে গ্রহের শক্তির পাশাপাশি জাতকের নিজস্ব পরিশ্রম, সিদ্ধান্ত ও কর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.