দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে বাঁকুড়ার মির্জাপুরে অনন্য রীতি—সাঁতরা পরিবারের বড় বউ হীরাবালা সাঁতরাকে কালী রূপে পুজো করা হয়, চলেছে ৪০ বছর ধরে।
দীপান্বিতা অমাবস্যার রাত মানেই আলো, উৎসব আর নতুন প্রাণের সুর। কিন্তু বাঁকুড়া জেলার ইন্দাসের মির্জাপুর গ্রামে সেই আলোয় মিশে আছে এক অন্য জগৎ—বিশ্বাস, প্রথা আর অলৌকিকতার। এখানে কালীপুজোর দিনে দেবীর আসনে বসেন কোনও প্রতিমা নয়, রক্ত-মাংসের মানুষ। তিনি সাঁতরা পরিবারের বড় বউ, হীরাবালা সাঁতরা।
এই পরিবারে বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এই বিরল রীতি। কথিত আছে, সাঁতরা পরিবারের এক পূর্বপুরুষ স্বপ্নে দেবীর কাছ থেকে আদেশ পান—বাড়ির বড় বধূকেই কালী রূপে পুজো করতে হবে। সেই বিশ্বাস আজও অটুট। প্রায় ৪০ বছর ধরে হীরাবালা দেবীর আসনে বসে পূজিতা হন ‘জ্যান্ত মা মুণ্ডমালিনী’ রূপে।

পুজোর দিন সকালে তাঁকে বসানো হয় দেবীর আসনে। পরনে রক্তজবার মালা, কপালে রক্তচন্দনের তিলক—এই সরল সাজেই তিনি হয়ে ওঠেন দেবীস্বরূপা। পরিবারের বিশ্বাস, পুজোর সময় স্বয়ং কালী তাঁর শরীরে অধিষ্ঠান করেন। পুরোহিত তাঁর পূজা দেন, গ্রামের মানুষ প্রণাম করতে আসেন।

এই পুজো এখানেই শেষ হয় না। পরদিন নিয়ম মেনে আবারও তাঁকে দেবী রূপে বরণ করা হয়, তারপর ঘটে বিসর্জনের নিয়ম। দেবী প্রতিমা নয়, মানুষকেই দেবীরূপে পুজো করার এই প্রথা আজও মির্জাপুর গ্রামে জীবন্ত—মানুষের মধ্যে দেবত্ব খোঁজার এক প্রতীক হয়ে।
#Bankura #KaliPuja #Mirzapur #Tradition #WestBengal #Faith #HumanGoddess #CulturalIndia #Diwali2025 #HirabalaSantara

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.