সনাতন ধর্মে পূর্ণিমা তিথি মানেই আধ্যাত্মিক চেতনার শিখর। তার মধ্যেও মাঘী পূর্ণিমা এক বিশেষ মাহাত্ম্য বহন করে। এই তিথি ভগবান বিষ্ণু, দেবী লক্ষ্মী ও চন্দ্রদেবের আরাধনার জন্য সর্বাধিক পবিত্র বলে শাস্ত্রে বর্ণিত। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নিষ্ঠাভরে পূজা, উপবাস, জপ-তপস্যা ও দান করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ সুগম হয়।
ধর্মীয় মতে, মাঘ পূর্ণিমাতেই ভগবান বিষ্ণু মৎস্য অবতার গ্রহণ করেছিলেন। সেই কারণেই এই দিনে বিষ্ণু আরাধনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আরও একটি প্রচলিত বিশ্বাস হল—ভগবান বিষ্ণু জলতত্ত্বে বিরাজ করেন। তাই মাঘী পূর্ণিমায় মা গঙ্গায় স্নান করলে ভক্তরা দিব্য আশীর্বাদ, পুণ্যসঞ্চয় এবং শেষপর্যন্ত মোক্ষলাভের যোগ অর্জন করেন।
মাঘ পূর্ণিমা ২০২৬: তারিখ ও তিথি
২০২৬ সালে মাঘ পূর্ণিমা পালিত হবে ১ ফেব্রুয়ারি।
পূর্ণিমা তিথি শুরু: ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ৫২ মিনিটে
পূর্ণিমা তিথি শেষ: ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে
শাস্ত্র মতে, পূর্ণিমার দিনে পূর্ণচন্দ্রের আধ্যাত্মিক শক্তি সর্বাধিক সক্রিয় থাকে। ফলে এই সময়ে স্নান, দান, জপ ও পূজা করলে তার ফল বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
স্নান ও দানের শুভ মুহূর্ত
মাঘী পূর্ণিমায় নির্দিষ্ট কিছু সময়কে বিশেষভাবে শুভ বলে মানা হয়—
ব্রহ্ম মুহূর্ত (স্নানের শ্রেষ্ঠ সময়): ভোর ৫টা ২৪ মিনিট থেকে ৬টা ১৭ মিনিট
অভিজিৎ মুহূর্ত: দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১২টা ৫৭ মিনিট
সন্ধ্যাকাল: বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
এই সময়গুলিতে গঙ্গাস্নান, অন্নদান, বস্ত্রদান বা অর্থদান করলে বিশেষ পুণ্যলাভ হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।
মাঘ পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
এই দিনে ভক্তরা ভগবদ্গীতা পাঠ, বিষ্ণু সহস্রনাম জপ ও নামস্মরণে মনোনিবেশ করেন। শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রকৃত ভক্তির মূল ভিত্তি হল সৎ জীবনযাপন ও মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। বিশ্বাস করা হয়, মাঘ পূর্ণিমা পালন মানেই শ্রীকৃষ্ণ তথা ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা।
এছাড়াও পূর্ণিমার চাঁদ মানসিক অস্থিরতা কমিয়ে মনকে শান্ত করে। তাই এই দিনে ধ্যান ও জপে বসলে ভক্তরা ঈশ্বরের সঙ্গে গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ অনুভব করেন।
মাঘ মেলার শেষ মহাস্নান
মাঘী পূর্ণিমার সঙ্গে যুক্ত থাকে ঐতিহ্যবাহী মাঘ মেলার শেষ স্নান। সংবাদ অনুযায়ী, এই দিনে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কোটি ভক্তের সমাগম হতে পারে। এর আগে বসন্ত পঞ্চমীর স্নানে প্রায় ৩.৫৬ কোটি মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বিপুল ভিড় সামাল দিতে প্রশাসন মেলা চত্বরে কড়া নো-ভেহিকল জোন ঘোষণা করেছে এবং সাতটি দিক দিয়ে আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মাঘী পূর্ণিমা ২০২৬ ভক্তদের কাছে পুণ্যসঞ্চয়, আত্মশুদ্ধি, আধ্যাত্মিক সাধনা ও ঈশ্বরের কৃপালাভের এক অনন্য সুযোগ হয়ে উঠছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.