হিন্দু ধর্মে মকর সংক্রান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। প্রতি বছর সূর্যদেব যখন ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন, তখনই পালিত হয় মকর সংক্রান্তি। ২০২৬ সালে এই উৎসব আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রায় ২৩ বছর পর মকর সংক্রান্তি একাদশী তিথির সঙ্গে মিলিত হচ্ছে। এর আগে এমন যোগ দেখা গিয়েছিল ২০০৩ সালে। এই বছর মকর সংক্রান্তি ও ষষ্ঠীলা একাদশীর যুগলবন্দি ভক্তদের কাছে বিশেষ পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হচ্ছে।
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার সূর্যদেব মকর রাশিতে প্রবেশ করবেন। এই দিন থেকেই সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়, অর্থাৎ সূর্য তার উত্তরমুখী যাত্রা আরম্ভ করেন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, উত্তরায়ণকে দেবতাদের দিন বলা হয় এবং এই সময় করা দান, পূজা ও সৎকর্মের ফল বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
এ বছর মকর সংক্রান্তির দিনে দুটি অত্যন্ত শুভ যোগ গঠিত হচ্ছে—সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ এবং অমৃত সিদ্ধি যোগ। এই যোগে করা যে কোনও শুভ কাজ, যেমন দান, জপ, উপাসনা ও ব্রত, বিশেষ ফল প্রদান করে। তাই জ্যোতিষীরা এই দিনটিকে সারা বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
মকর সংক্রান্তির শুভ সময়
শুভ সময়: বিকাল ৩:০৪ থেকে ৫:৫৭ পর্যন্ত
মহাপুণ্যকাল: বিকাল ৩:০৪ থেকে ৩:২৮ পর্যন্ত
স্নান ও দানের সময়: সকাল ৯:০৩ থেকে ১০:৪৮ পর্যন্ত
এই সময়ের মধ্যে স্নান, দান ও পূজা করলে বিশেষ পুণ্যলাভ হয় বলে বিশ্বাস।
মকর সংক্রান্তির পূজা পদ্ধতি
মকর সংক্রান্তির দিন ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে পবিত্র নদীতে স্নান করা সর্বোত্তম। যাঁরা বাড়িতে স্নান করবেন, তাঁরা স্নানের জলে তিল মিশিয়ে নিতে পারেন। স্নানের পর পরিষ্কার বস্ত্র পরে তামার পাত্রে জল নিয়ে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য প্রদান করতে হয়। অর্ঘ্যের জলে লাল ফুল, তিল ও অক্ষত যোগ করা শুভ।
এই সময় “ওঁ সূর্যায় নমঃ” অথবা “ওঁ ঘৃণী সূর্যায় নমঃ” মন্ত্র জপ করলে সূর্যদেব প্রসন্ন হন বলে মনে করা হয়। যেহেতু এই দিন একাদশী তিথিও, তাই ভগবান বিষ্ণুর পূজা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিষ্ণুকে তিলের তৈরি ভোগ, ফল ও তুলসী পাতা অর্পণ করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
মকর সংক্রান্তিতে দানের গুরুত্ব
মকর সংক্রান্তি ও ষষ্ঠীলা একাদশীর যুগল যোগে দানের গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। শাস্ত্র মতে, এই দিনে খাদ্য, বস্ত্র ও অর্থ দান করলে জীবনের বহু বাধা দূর হয়। বিশেষ করে তিল ও গুড় দিয়ে তৈরি সামগ্রী দান করলে পাপক্ষয় হয় এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও এই দিনে ফল, শাকসবজি, ঘি, চাল, ডাল এবং উষ্ণ বস্ত্র দান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অভাবীদের সাহায্য করলে সূর্য ও বিষ্ণু—উভয়েরই কৃপা লাভ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, মকর সংক্রান্তি ২০২৬ শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, দান ও ধর্মীয় সাধনার এক বিরল সুযোগ। এই বিশেষ দিনে নিয়ম মেনে পূজা ও দান করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে—এমনটাই বিশ্বাস শাস্ত্রের।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.