গুজরাটের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে রবিবার শুরু হল বহুল প্রতীক্ষিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে ধর্মীয় আবহ ও জাতীয় গৌরবে ভরপুর এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশজুড়ে ভক্ত ও অনুগামীদের মধ্যে এই অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
শনিবার গুজরাটে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। রবিবার, ১১ জানুয়ারি, সোমনাথে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “সোমনাথ মন্দির যুগ-যুগ ধরে মানুষের আস্থা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক। এর ঐতিহ্য আজও আমাদের পথ দেখায়।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবার সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণ হয়। এরপর ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বহুবার এই পবিত্র স্থান ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে। মাহমুদ গজনী থেকে আওরঙ্গজেব—একাধিক আক্রমণকারীর নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারবার আঘাত এলেও সোমনাথ প্রতিবারই নতুনভাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আক্রমণকারীরা ভুলে গিয়েছিল যে ‘সোমনাথ’ নামের মধ্যেই রয়েছে ‘সোম’, যার অর্থ অমৃত। যতবারই এই মন্দির ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে, ততবারই তা নতুন প্রাণে জেগে উঠেছে।” তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ধর্মীয় সন্ত্রাসীরা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেলেও সোমনাথ মন্দির আজও গর্বের সঙ্গে অটল দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মোদী আরও বলেন, হাজার বছর আগের ইতিহাস ও পরিবেশ আজও এই পবিত্র স্থানে অনুভব করা যায়। এখানকার পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস, আস্থা ও মহাদেবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, একসময় অত্যাচারীরা ভেবেছিল তারা ভারতকে পরাজিত করেছে, কিন্তু আজ সোমনাথ মন্দিরের চূড়ায় উড়তে থাকা পতাকা গোটা বিশ্বকে ভারতের শক্তি ও সামর্থ্যের বার্তা দিচ্ছে।
বিরোধীদের নাম না করেই প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, স্বাধীনতার পর এক শ্রেণির মানুষ দাসত্বের মানসিকতা নিয়ে এই গৌরবময় ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সোমনাথের ইতিহাস ধ্বংসের নয়, বরং জয় ও পুনর্গঠনের ইতিহাস। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এমন বহু পবিত্র স্থান রয়েছে, যা হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে এবং জাতির স্থিতিশীলতার প্রতীক।
অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগের রাতে বৈদিক গুরুকুলের এক হাজার ছাত্রের উপস্থিতি এবং এক হাজার ড্রোনের মাধ্যমে সোমনাথের এক হাজার বছরের ইতিহাসের উপস্থাপনা ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এছাড়া ১০৮টি ঘোড়া নিয়ে শৌর্যযাত্রা, বৈদিক মন্ত্র ও স্তোত্র পাঠ গোটা পরিবেশকে আধ্যাত্মিক ও গৌরবময় করে তোলে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে গর্ব, মর্যাদা, আধ্যাত্মিকতা, আনন্দ এবং সর্বোপরি ভগবান শিবের আশীর্বাদ লাভ হয়েছে। ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতের আত্মসম্মান, ঐতিহ্য ও পুনর্জাগরণের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেই উঠে এসেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.