জীবনের পথে চলতে গেলে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের প্রয়োজন অপরিসীম। সম্পর্ক হোক বা কাজের জায়গা, বড় কোনও সিদ্ধান্তের সময় হোক বা কঠিন পরিস্থিতিতে—যাঁদের উপর ভরসা করা যায়, তাঁরাই হয়ে ওঠেন জীবনের আসল শক্তি। কিন্তু বাস্তবে সব মানুষ সমান বিশ্বাসযোগ্য হন না। কেউ কথার ফুলঝুরি ফোটালেও প্রয়োজনের সময় পাশে থাকেন না। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, মানুষের স্বভাব ও মানসিক গঠনের ইঙ্গিত অনেকটাই লুকিয়ে থাকে রাশিচক্রে।
গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব বিচার করলে দেখা যায়, কিছু রাশির মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবেই থাকে সততা, দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার প্রবণতা। জ্যোতিষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন চারটি রাশি রয়েছে যাঁদের মানুষদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বলে মনে করা হয়।
বৃষ রাশি
বৃষ রাশির মানুষের প্রধান শক্তি তাঁদের স্থিরতা। এঁরা আবেগে সিদ্ধান্ত নেন না এবং একবার কোনও কথা দিলে তা রাখাকে কর্তব্য বলে মনে করেন। সম্পর্ক হোক বা পেশাগত জীবন—ধীরে হলেও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ শেষ করেন। বিশ্বাস ভাঙা তাঁদের স্বভাবের পরিপন্থী।
কর্কট রাশি
কর্কট রাশির মানুষ আবেগপ্রবণ হলেও সেই আবেগ থেকেই জন্ম নেয় গভীর বিশ্বস্ততা। যাঁদের আপন করে নেন, তাঁদের জন্য সব সময় পাশে দাঁড়ান। বিশ্বাসের জায়গায় তাঁরা অত্যন্ত সংবেদনশীল, কাউকে ঠকালে নিজেরাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
কন্যা রাশি
কন্যা রাশির মানুষের কাছে দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথা দিয়ে কথা রাখাটা তাঁদের চরিত্রের অঙ্গ। নিজের লাভের জন্য বিশ্বাস ভাঙা বা গোপন কথা প্রকাশ করা তাঁদের স্বভাবে খুব কমই দেখা যায়। তাই কর্মক্ষেত্রে এঁরা অত্যন্ত ভরসাযোগ্য।
মকর রাশি
মকর রাশির মানুষ বাস্তববাদী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। সহজে প্রতিশ্রুতি না দিলেও একবার দিলে তা রক্ষা করেন। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও বড় দায়িত্বে এঁদের উপর নির্ভর করেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে এই চার রাশির মানুষদের উপর ভরসা করলে ঠকার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। যদিও বাস্তব জীবনে ব্যক্তিগত চরিত্র ও মূল্যবোধই শেষ কথা, তবুও রাশিচক্র অনেক সময় মানুষের স্বভাব বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।