‘সেবা’র আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য! ব্যক্তিস্বার্থই মুখ্য: শুভাশীষ মুখার্জি

উত্তর কলকাতার পুরনো পাড়ার পরিবেশ একসময় ছিল একেবারেই আলাদা—এমনটাই মনে করেন লেখক। দর্জিপাড়ার ছিদাম মুদি লেনের মতো এলাকায় বড় হয়ে ওঠা তাঁর শৈশব জুড়ে ছিল এক বিশেষ রাজনৈতিক আবহ, যা আজকের দিনের সঙ্গে তুলনা করলে অনেকটাই বদলে গেছে। ছোটবেলায় ভোট বা রাজনীতির জটিলতা বোঝার বয়স না থাকলেও, চারপাশের পরিবেশ তাঁকে আকর্ষণ করত।

তখন পাড়ার বড়রা শুধু রাজনৈতিক কর্মীই ছিলেন না, বরং অভিভাবকের মতো ভূমিকা নিতেন। দেওয়াল লিখন, পোস্টার লাগানো—এসব ছিল উৎসবের মতো। কংগ্রেস ও সিপিএম—দুই দলের প্রভাবই ছিল, কিন্তু মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হত না। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা কখনও হিংসায় গড়াত না। বরং বন্ধুত্ব বজায় থাকত।

শৈশবে লেখক নিজেও সেই কাজে যুক্ত হতেন। দলাদলি বোঝার আগেই পোস্টারে আঠা মাখানোর আনন্দ ছিল আলাদা। হাতে আঠা লেগে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে মিলে কাজ করা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই তাঁর কাছে রাজনীতির প্রথম পরিচয়।

পরবর্তীতে জয়পুরিয়া কলেজে পড়াশোনার সময় রাজনীতির আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ থাকলেও, তিনি সচেতনভাবেই দূরে থেকেছেন। তাঁর মতে, যে বিষয়টি তিনি পুরোপুরি বোঝেন না, তা নিয়ে মতামত দেওয়া ঠিক নয়। তবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া মানুষদের প্রতি তাঁর এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে নিজের পেশাগত ক্ষেত্রের মানুষদের রাজনীতিতে যোগ দিতে দেখে তিনি প্রশ্ন তোলেন—কেন এই পরিবর্তন? তাঁর মনে হয়, অনেক সময় এটি প্রকৃত আগ্রহ বা আদর্শের জায়গা থেকে নয়, বরং হঠাৎ সিদ্ধান্ত। তাই তিনি এই প্রবণতাকে গুরুত্ব দিতে পারেন না।

রাজনীতি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তিনি তুলেছেন ‘সেবা’ শব্দটিকে ঘিরে। অনেকেই দাবি করেন, মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যেই তারা রাজনীতিতে আসেন। কিন্তু লেখকের মতে, মানুষের সেবা করার অনেক পথ রয়েছে। তিনি নিজে অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেন—এটিকেও তিনি এক ধরনের সেবা হিসেবেই দেখেন।

এই জায়গা থেকেই তাঁর সংশয়—রাজনীতিতে গিয়ে আসলে কতটা মানুষের উপকার করা হয়? তাঁর উপলব্ধি, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিস্বার্থই মুখ্য হয়ে ওঠে। ফলে ‘সেবা’র আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য কাজ করে বলে তাঁর ধারণা।

পুরনো দিনের দেওয়াল লিখনেও ছিল এক ধরনের সৃজনশীলতা। ছড়া, ব্যঙ্গ, বুদ্ধিদীপ্ত ভাষা—সব মিলিয়ে রাজনীতি তখন সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল। এখন সেই ধারা অনেকটাই হারিয়ে গেছে বলে তাঁর আক্ষেপ।

সব মিলিয়ে, শৈশবের স্মৃতিগুলো তাঁর কাছে অমূল্য। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে নিজেকে দূরে রেখে তিনি সেই সময়ের সরলতা ও আন্তরিকতাকেই ধরে রাখতে চান।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক