ভারতের সুফি ঐতিহ্যের ইতিহাসে যে কজন সাধকের নাম আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া। প্রেম, ভক্তি ও ‘ইশক’-এর মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার পথ—এই দর্শনই আজীবন প্রচার করে গিয়েছেন তিনি। দিল্লির নিজামুদ্দিন দরগা আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সেই মহান সুফি সাধককে ঘিরেই সম্প্রতি বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন বাংলার জনপ্রিয় লোকশিল্পী ও সারেগামাপা খ্যাত গায়িকা পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় (Paushali Banerjee)
সম্প্রতি একটি মঞ্চ অনুষ্ঠানে ‘ধন্য ধন্য মেরা, ধন্য ধন্য মেরা, সিলসিলা… এলো দিল্লীতে নিজামুদ্দিন আউলিয়া’ গানটি পরিবেশন করছিলেন পৌষালী। গান শুরুর আগে দর্শকদের উদ্দেশে তিনি সুফি সাধকের জীবন সম্পর্কে কিছু কথা বলেন। সেই বক্তব্যেই ঘটে বিপত্তি। পৌষালী জানান, পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে মায়ের হাত ধরে তিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে দিল্লিতে আসেন।
এই তথ্যের একাংশ সত্য হলেও মূল জায়গাটিতেই ভুল করে বসেন গায়িকা। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার জন্ম হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বাদায়ুনে, ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দে। পাঁচ বছর বয়সে বাবার মৃত্যু ও পরবর্তীতে দিল্লিতে আগমন—এই তথ্য ঠিক হলেও ‘পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কারণ তাঁর জন্মকালে পাকিস্তান তো দূরের কথা, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণাই ছিল না।
আরও পড়ুন
শেষবেলায় ক্ষমাপ্রার্থনা ধর্মেন্দ্রর: ‘ইক্কিস’-এর শুটিংয়ে ধরা পড়ল আবেগঘন মুহূর্ত
সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জায়গা তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, বক্তব্য দেওয়ার সময় পৌষালী নিজেই বলেন—এখন সবার হাতে মোবাইল আছে, গুগলে সব তথ্য পাওয়া যায়। অথচ সেই কথা বলার পরই এমন একটি ঐতিহাসিক ভুল তথ্য প্রকাশ্যে বলে ফেলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা স্ক্রিনশট ও ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে গায়িকাকে কটাক্ষ করতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন
Mimi: সমালোচকদের কড়া জবাব! নেটদুনিয়ায় ভাইরাল মিমি চক্রবর্তীর নতুন ভিডিও
একজন মন্তব্য করেন, “তিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসেননি। উত্তরপ্রদেশের বাদায়ুন থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন। এই তথ্য গুগলেই সহজে পাওয়া যায়।” আরেকজন লেখেন, “১২৩৮ সালে পাকিস্তানের কোনও অস্তিত্বই ছিল না।”
যদিও সমালোচনার পাশাপাশি গায়িকার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তাঁর অনুরাগীরাও। তাঁদের বক্তব্য, এটি অনিচ্ছাকৃত একটি ছোট ভুল, যা দিয়ে একজন শিল্পীর প্রতিভা বা গানের মান বিচার করা উচিত নয়। তাঁদের মতে, পৌষালীর কণ্ঠ ও লোকসংগীতে অবদানই আসল, ইতিহাসের একটি ভুল উচ্চারণ নয়।
এর আগেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগে সিনিয়র শিল্পী জোজোর সঙ্গে বাদানুবাদ নিয়েও আলোচনায় ছিলেন তিনি। তবে এবারের বিতর্ক সম্পূর্ণ আলাদা—এখানে শিল্প নয়, ইতিহাসের তথ্যই হয়ে উঠেছে মূল বিষয়।
এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—মঞ্চে বা প্রকাশ্যে ঐতিহাসিক চরিত্র ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কথা বলার আগে তথ্য যাচাই কতটা জরুরি। একই সঙ্গে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একটি ছোট ভুল কীভাবে মুহূর্তে বড় বিতর্কে রূপ নিতে পারে, তারও স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে রইল এই ঘটনা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.