টলিপাড়ায় আবারও উত্তেজনার পারদ চড়াল এক বিতর্ক। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর স্মৃতিকে ঘিরে নতুন করে মুখোমুখি হলেন জীতু কমল এবং পায়েল দে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু টলিপাড়াকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সময় গড়ালেও সেই শোক ও বিতর্ক যেন থামার নাম নিচ্ছে না।
ঘটনার সূত্রপাত মার্চের শেষ দিকে। শিল্পী মহলের উদ্যোগে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো প্রাঙ্গণ থেকে একটি নীরব মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে রাহুলের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। সেই মিছিলে অংশ নেননি জীতু কমল। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, তাঁর প্রতিবাদের ধরন আলাদা।
মিছিলে যোগ না দিয়ে স্টুডিয়োর এক কোণে গাছতলায় বসে তিনি রাহুলের ছবিতে মালা দেন। পাশাপাশি নিজের ছবিতেও মালা দিয়ে এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। জীতুর দাবি, শুটিংয়ের সময় তিনি নিজেও একবার বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু সেই অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। তাই এই অভিনব উপায়ে তিনি প্রতিবাদ জানান।
এই ঘটনার কয়েক দিন পরেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। সামাজিক মাধ্যমে পায়েল দে নাম উল্লেখ না করেই অভিযোগ তোলেন—গাছতলায় রাখা রাহুলের ছবিটি নাকি অবহেলায় ফেলে রেখে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের ছবিটি নিয়ে চলে গেলেও রাহুলের ছবির দিকে নজর দেননি।
পায়েল আরও জানান, পরে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত সেই ছবিটি উদ্ধার করে শিল্পী সংগঠনের দফতরে সযত্নে রেখে আসেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি পায়েল; তাঁর বক্তব্য, যা বলার তিনি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেছেন।
অন্যদিকে জীতু কমল এই অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, পায়েল শিক্ষিত এবং তাঁর নিজের লড়াই ব্যক্তিগত। বর্তমানে তিনি কাজ নিয়েই ব্যস্ত—শুটিং ও ডাবিং চলছে নিয়মিত। হঠাৎ করে এই প্রসঙ্গ কেন সামনে আনা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে জানান, কাজের জায়গায় তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক এবং শুটিং চলাকালীন কোনও অস্বস্তি হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ায় মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুদীপা চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জীতুর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিপরীতে তথাগত মুখোপাধ্যায় এবং রূপাঞ্জনা মিত্র সমর্থন জানিয়েছেন পায়েলের বক্তব্যকে।
সব মিলিয়ে, রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে যে আবেগ এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা এখনও প্রশমিত হয়নি। বরং নতুন অভিযোগ-প্রতিআরোপে সেই বিতর্ক আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। টলিপাড়ার অন্দরে এই বিভাজন কোথায় গিয়ে থামবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.


