বলিউডের জনপ্রিয় ছবি কভী হাঁ কভী না মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৪ সালে। ছবিতে শাহরুখ খান ও সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তির রসায়নের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কেড়েছিল শাহরুখের বোনের চরিত্রও। সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী সাদিয়া সিদ্দীকী। তবে সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, প্রথমদিকে এই চরিত্রে অভিনয় করতে মোটেই রাজি ছিলেন না। কারণ, তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে শাহরুখ খানের প্রতি গভীর অনুরাগ অনুভব করতেন।
এক সাক্ষাৎকারে সাদিয়া মজার ছলে জানান, সেই সময় তিনি শাহরুখ খানের বড় ভক্ত ছিলেন এবং তাঁর প্রতি বিশেষ অনুভূতিও কাজ করত। তাঁর কথায়, তখনকার দিনে শাহরুখই ছিলেন তাঁর সমস্ত মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তাই পর্দায় তাঁর বোনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে তিনি অস্বস্তিতে পড়েছিলেন।
সাদিয়াকে ছবির জন্য বেছে নিয়েছিলেন পরিচালক কুন্দন শাহ। পরিচালক প্রথম তাঁকে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক হমরাহি-তে দেখে মুগ্ধ হন এবং পরে নিজের ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সাদিয়া শুরুতেই না বলে দেন। পরিচালক কারণ জানতে চাইলে তিনি খোলাখুলিভাবে জানান, শাহরুখের প্রতি তাঁর বাস্তব অনুভূতির প্রভাব অভিনয়ে পড়তে পারে বলেই তিনি এই চরিত্রে স্বচ্ছন্দ নন।
শুধু তাই নয়, সাদিয়া নাকি পরিচালককে অনুরোধও করেছিলেন, যদি সম্ভব হয় তবে তাঁকে ছবির নায়িকার চরিত্রে নেওয়া হোক। তবে কুন্দন শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেই চরিত্রের জন্য তিনি তখন বয়সে অনেকটাই ছোট।
সাদিয়া আরও জানান, পরদিন তিনি নিজের সেরা পোশাক পরে, সাজগোজ করে সেটে পৌঁছেছিলেন। তাঁর আশা ছিল, হয়তো পরিচালক সিদ্ধান্ত বদলাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুন্দন শাহ নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন এবং তাঁকেই শাহরুখের বোনের চরিত্রে অভিনয় করতে বলেন।
অবশেষে পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে তিনি চরিত্রটি গ্রহণ করেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত অনুভূতি যতই প্রবল থাকুক না কেন, ক্যামেরার সামনে তিনি সম্পূর্ণভাবে চরিত্রে ঢুকে যেতে পেরেছিলেন। ফলে দর্শকদের কাছে পর্দার ভাই-বোনের সম্পর্কই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছিল।
সাদিয়া আরও জানান, নিজের অনুভূতির কথা তিনি কখনও সরাসরি শাহরুখ খানকে বলেননি। তবে তাঁর ধারণা, অভিনেতা হয়তো বিষয়টি কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। শুটিং চলাকালীন শাহরুখের আন্তরিক ব্যবহার আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে। একবার সমুদ্রসৈকতে রোদের মধ্যে বসে থাকতে দেখে শাহরুখ তাঁকে ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নিতে এবং জল খেতে বলেছিলেন। সহ-অভিনেত্রীর প্রতি তাঁর এই যত্নশীল আচরণ সাদিয়ার মনে বিশেষ ছাপ ফেলেছিল।
বহু বছর পরে একটি ডাবিং স্টুডিয়োতে আবার তাঁদের দেখা হয়। তখন শাহরুখ দেশের অন্যতম বড় তারকা। সাদিয়ার মনে হয়েছিল, এত বছর পরে হয়তো তাঁকে আর মনে নেই অভিনেতার। কিন্তু শাহরুখ নিজেই তাঁকে নাম ধরে ডাকেন এবং আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানান। সেই মুহূর্তে সাদিয়া বিস্মিত হয়ে পড়েন। তাঁর কথায়, এত সাফল্যের পরেও শাহরুখের মানুষের প্রতি আন্তরিকতা ও স্মৃতিশক্তিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।
অভিনেত্রীর মতে, ক্যারিয়ারের নানা স্মৃতির মধ্যে শাহরুখ খানের সঙ্গে কাটানো এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আজও তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাঁর বিশ্বাস, একজন বড় তারকা হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হিসেবেও শাহরুখের এই আচরণই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.