বড়দিনে মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বড় বাজেটের ছবির ভিড়ে নজর কেড়েছে অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘মিতিন: একটি খুনির সন্ধানে’। এই ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে। পর্দায় তাঁর চরিত্রটি যেমন দাপুটে, তেমনই রহস্যময় ও রসিকতায় ভরপুর। একাধিক নারীসঙ্গ, রাগে গালমন্দ আর আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে সাহেবের এই রূপ দর্শকের নজর কেড়েছে।
তবে পর্দার এই ‘দুষ্টুমি’ বাস্তব জীবনের সঙ্গে কতটা মেলে? আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহেব নিজেই জানালেন, বাস্তবে তিনি একেবারেই আলাদা মানুষ। তাঁর কথায়, “হাজার রাগ হলেও গালমন্দ আমার মুখে আসে না। অভিনয়ের সময়েও নিজেকে বোঝাতে হয়েছে—এটা চরিত্র, বাস্তব নয়।”
ছবিতে তিনি একজন গান রেকর্ডিং সংস্থার কর্ণধার। তাঁর মা লখনউয়ের খ্যাতনামী বাঈজি, বাবা প্রথম স্ত্রীকে ত্যাগ করে তাঁকে বিয়ে করেছেন—এই পারিবারিক টানাপোড়েন থেকেই তৈরি হয়েছে চরিত্রের জটিলতা। এই অতীতই তাঁর মধ্যে ভালো-মন্দ মিলিয়ে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
বাস্তবে সাহেব নিজেও সংগীতপ্রেমী। রবীন্দ্রসঙ্গীত ভালোবাসেন, গানও করেন। কিন্তু পর্দার মতো নারীসঙ্গ তাঁর জীবনে নেই বললেই চলে। অভিনেতা নিজেই বলেছেন, “ছোটবেলায় এক-দুটো প্রেম হয়েছিল। কিন্তু ‘নারীসঙ্গ’ বলতে যা বোঝায়, তা কখনও ছিল না। বিয়ের পর তো নয়ই।”
তিনি আরও জানান, তাঁর অনুরাগীদের অনেকেই হয় বয়সে অনেক ছোট, নয়তো অনেক বড়। তাই স্ত্রীও তাঁকে নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন।
খলনায়ক হিসেবে সাহেবকে এর আগেও দেখা গেছে ‘হত্যাপুরী’, ‘মিসেস আন্ডারকভার’, ‘অনুসন্ধান’, ‘বিজয়া’, ‘ব্ল্যাক উইডো’-এর মতো প্রজেক্টে। তবে অভিনেতার আক্ষেপ, একবার কোনও তকমা লেগে গেলে ইন্ডাস্ট্রিতে তা ভাঙা কঠিন। “দর্শক আমাকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখতে চায় না, কিন্তু কাজ তেমনই আসছে,” বললেন তিনি।
তবু অভিনয়ই তাঁর আসল ভালোবাসা। চরিত্র ভালো হলে নায়ক-খলনায়ক কোনও ভেদ নেই। তাঁর কথায়, “আমি অভিনয়টা উপভোগ করি। তাই হয়তো চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। আর সেটাই দর্শকের ভালো লাগে।”
সবশেষে হেসে বললেন,
“পর্দায় যতই লম্পট দেখানো হোক, বাস্তবে আমি একেবারেই শান্ত, পত্নীনিষ্ঠ ভদ্রলোক।”

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.