শিল্প, সংস্কৃতি ও বিদ্যার রাজ্য বাংলায় সরস্বতী পুজো মানেই আলাদা এক আবেগ। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বাড়ির অন্দর— সর্বত্রই শুরু হয়ে গেছে বাগদেবীর আরাধনার প্রস্তুতি। বাজারে বিক্রি হচ্ছে রঙিন সরস্বতী প্রতিমা, সাজানো হচ্ছে পুজোর মণ্ডপ ও ঘরোয়া অঙ্গন। তবে উৎসবের আগে আবহাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকেই— সরস্বতী পুজোর দিনে কি বাড়বে শীত? নাকি বৃষ্টির ভ্রুকুটি?
চলতি বছর তিথি অনুযায়ী সরস্বতী পুজো মাঘ মাসের প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন— দুই তাপমাত্রার পারদই ঊর্ধ্বমুখী। যদিও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী “মাঘের শীত” বেশ কড়া হয়, তবে আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস সেই আশঙ্কায় জল ঢালছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সাত দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ হঠাৎ করে শৈত্যপ্রবাহ বা কনকনে ঠান্ডা পড়ার আশঙ্কা নেই। বরং সরস্বতী পুজোর দিন দক্ষিণবঙ্গে থাকবে পরিষ্কার আকাশ ও ঝলমলে রোদ। আবহাওয়া থাকবে মূলত শুষ্ক।
সবচেয়ে স্বস্তির খবর, পুজোর দিন বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাসই নেই। ফলে প্রতিমা বিসর্জন, খোলা আকাশের নিচে পুজো বা ছাত্রছাত্রীদের উদ্যাপন— কোথাওই আবহাওয়া বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। খুব একটা ঠান্ডা না থাকায় সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত স্বাভাবিক উৎসবের মেজাজ বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গেও পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। বর্তমানে যে তাপমাত্রা রয়েছে, আগামী সাত দিন তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। সেখানেও না রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা, না রয়েছে তীব্র ঠান্ডার পূর্বাভাস। ফলে পাহাড় থেকে সমতল— সর্বত্রই সরস্বতী পুজো নির্বিঘ্নে পালিত হবে।
অনেকের বিশ্বাস, সরস্বতী পুজোর পরদিন অর্থাৎ শীতল ষষ্ঠীতে বৃষ্টি হয়। কিন্তু এ বছর সেই বিশ্বাসও বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে না। আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুজোর পরদিনও বাংলায় বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এ বছর সরস্বতী পুজো কাটতে চলেছে মনোরম, শুকনো ও রোদেলা আবহাওয়ার মধ্য দিয়েই— যেখানে না থাকবে শীতের কাঁপুনি, না থাকবে বৃষ্টির ভেজা উৎকণ্ঠা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.