সন্তানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গলকামনার উদ্দেশ্যে সরস্বতী পুজোর পরের দিন পালিত হয় শীতলষষ্ঠী ব্রত। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন মাসের ষষ্ঠী তিথি ভিন্ন নামে পরিচিত এবং তার সঙ্গে পালনের রীতিনীতিতেও দেখা যায় বৈচিত্র্য। মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিই শীতলষষ্ঠী নামে পালিত হয়, যা অনেক জায়গায় শীলষষ্ঠী বা গোটাষষ্ঠী নামেও পরিচিত।
শীতলষষ্ঠীর মূল বৈশিষ্ট্য হল আগের দিনের রান্না করা ঠান্ডা বা শীতল খাবার গ্রহণের রীতি। সেই কারণেই এই ষষ্ঠীর নাম শীতলষষ্ঠী। আবার শীলষষ্ঠীতে শীল বা শীলা দেবীকে ষষ্ঠী দেবী রূপে পুজো করা হয়। অন্যদিকে, গোটাষষ্ঠীতে কলাই ডাল ও গোটা সব্জি রান্না করে ষষ্ঠীদেবীর উদ্দেশে নিবেদন করার প্রথা রয়েছে। যদিও অঞ্চলভেদে নাম ও আচার বদলালেও, এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য একটাই—সন্তানের মঙ্গলকামনা।
২০২৬ সালে শীতলষষ্ঠী ব্রত পালনের সময় নিয়ে পঞ্জিকাভেদে সামান্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী,
ষষ্ঠী তিথি শুরু হবে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার (বাংলা ৯ মাঘ) মধ্যরাত ১টা ৪৮ মিনিটে।
এই তিথি শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি, শনিবার (বাংলা ১০ মাঘ) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে।
অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে,
ষষ্ঠী তিথি আরম্ভ হবে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার (৯ মাঘ) মধ্যরাত ১২টা ২৭ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে।
তিথি শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি, শনিবার (১০ মাঘ) রাত ১০টা ৫৪ মিনিট ১০ সেকেন্ডে।
ব্রত পালন করার আগে কোন পঞ্জিকা অনুসরণ করবেন, তা ঠিক করে নেওয়াই শ্রেয়। বিশ্বাস অনুযায়ী নিয়ম মেনে শীতলষষ্ঠী ব্রত পালন করলে সন্তানের জীবনে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ বজায় থাকে—এমনটাই মনে করেন ভক্তরা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.