পুণেতে এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে স্কুলে বুলিং বা সহপাঠীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভয়াবহ প্রভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু অপমান, কটূক্তি বা ভয় দেখানোর অভিজ্ঞতা পরিবারের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে সময়মতো বিষয়টি ধরা না পড়লে মানসিক চাপ বাড়তে বাড়তে গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই অভিভাবকদের সন্তানের আচরণে ছোট ছোট পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা জরুরি।
স্কুলে যেতে অনীহা
যে শিশু আগে নিয়মিত আনন্দের সঙ্গে স্কুলে যেত, সে যদি হঠাৎ নানা অজুহাতে স্কুল এড়াতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেবেন না। শুধু বকাঝকা না করে শান্তভাবে কারণ জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করুন।

বারবার শারীরিক অসুস্থতার অভিযোগ
মাথাব্যথা, পেটব্যথা, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি বা পড়াশোনায় অমনোযোগ—এসব কখনও কখনও মানসিক চাপে থাকার লক্ষণ হতে পারে। শারীরিক কারণ না মিললে শিশু বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হঠাৎ সামাজিকতা কমে যাওয়া
যে শিশু আগে বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে মিশতে ভালোবাসত, সে যদি হঠাৎ একা থাকতে শুরু করে, নিজের ঘরে সময় কাটায় বা কারও সঙ্গে কথা বলতে না চায়, তবে তার মানসিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে তাকে চাপ না দিয়ে ধৈর্য ধরে কথা বলুন।
মেজাজের অস্বাভাবিক পরিবর্তন
অল্পতেই রেগে যাওয়া, কান্নাকাটি করা, বিরক্ত হয়ে থাকা বা অতিরিক্ত চুপচাপ হয়ে যাওয়া—এসবও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। পরিবারের উচিত শিশুর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।
জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়া বা কেড়ে নেওয়া
কখনও কখনও বুলিংয়ের অংশ হিসেবে সহপাঠীরা শিশুর ব্যাগ, টিফিন, টাকা বা অন্যান্য জিনিস কেড়ে নিতে পারে। যদি বারবার এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে শিশুর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন এবং স্কুলকে বিষয়টি জানান।
গবেষণায় কী উঠে এসেছে?
আন্তর্জাতিক এক বৃহৎ গবেষণায় বিপুল সংখ্যক কিশোর-কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্কুলে নিয়মিত ব্যঙ্গ বা অপমানের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা এবং আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তাই এই সমস্যাকে শুধুমাত্র ‘ছেলেমানুষি’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
অভিভাবকদের কী করা উচিত?
*সন্তানের সঙ্গে প্রতিদিন খোলামেলা কথা বলুন।
*বিচার না করে তার কথা মন দিয়ে শুনুন।
*স্কুলের শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।
*প্রয়োজন হলে শিশু মনোবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
*শিশুকে বোঝান, কোনও ধরনের অপমান বা ভয় দেখানো মেনে নেওয়ার বিষয় নয় এবং সে একা নয়।
শিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো পরিবারের সমর্থন, স্কুলের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অনেক বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.