মধ্যপ্রদেশের দামো জেলার ফুতেরা এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরির কাজ ঘিরে হঠাৎই সামনে এল এক চমকপ্রদ ঘটনা। বহু বছর আগে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা রৌপ্যমুদ্রায় ভরা একটি প্রাচীন ঘড়া উদ্ধার হয়েছে বাড়ির ভিত খোঁড়ার সময়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সরকারি স্কুলের শিক্ষক তাঁর পৈতৃক বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা ভিত খোঁড়ার কাজ শুরু করেন। কাজ চলাকালীন মাটির গভীর থেকে উঠে আসে একটি পুরনো মাটির ঘড়া। পরে দেখা যায়, ঘড়াটি ভর্তি রয়েছে রূপোর তৈরি বহু পুরনো মুদ্রায়।
প্রাথমিক তদন্তে প্রশাসনের অনুমান, মুদ্রাগুলি ব্রিটিশ আমলের। উদ্ধার হওয়া কয়েনগুলির সময়কাল ১৮১৫ সাল থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ প্রায় একশো বছরেরও বেশি পুরনো এই মুদ্রাগুলি কোনও এক সময়ে নিরাপদে রাখার উদ্দেশ্যে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। পরে সরকারি তরফে মোট ৪২টি রৌপ্যমুদ্রা উদ্ধার করা হয়। তবে এই উদ্ধার ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
যে শ্রমিকরা ভিত খোঁড়ার কাজ করছিলেন তাঁদের অভিযোগ, ঘড়াটি পাওয়ার পরই বাড়ির মালিক কাজ বন্ধ করে দেন এবং প্রত্যেক শ্রমিককে ৫০০ টাকা করে দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসনের হাতে যে কয়েন জমা পড়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি মুদ্রা উদ্ধার হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, বাকি মুদ্রার একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে ওই শিক্ষক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও মুদ্রা লুকিয়ে রাখেননি। বরং শ্রমিকদের মধ্যেই কেউ কেউ কিছু মুদ্রা নিজেদের কাছে রেখে থাকতে পারেন।
এই ঘটনার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধার হওয়া মুদ্রাগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং সেগুলির প্রকৃত সংখ্যা জানতে তদন্তকারীরা বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.