যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আইনি পথে হাঁটলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের এক ফ্যান ক্লাবের কর্তার বিরুদ্ধে নিজের সুনাম নষ্ট করার অভিযোগ তুলে কলকাতা পুলিশের লালবাজারে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ইমেলের মাধ্যমে লালবাজারে পাঠানো অভিযোগপত্রে সৌরভ স্পষ্টভাবে কলকাতার ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাব’-এর সভাপতি উত্তম সাহার নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে সৌরভের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর। সৌরভের দাবি, এসব মন্তব্যের ফলে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক শান্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে সৌরভ লিখেছেন, ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। সেই দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অবাস্তব ও গুরুতর অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিয়োনেল মেসি। প্রায় ২০ মিনিট মাঠে থাকাকালীন তাঁকে ঘিরে ধরে একদল মানুষ, যার ফলে গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকদের বড় অংশ মেসিকে ঠিকভাবে দেখতেই পাননি। মেসি স্টেডিয়াম ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়।
এই ঘটনার জেরে মেসির সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেয় জনতা। সেই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই শতদ্রুর সঙ্গে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে একাধিক মন্তব্য করেন উত্তম সাহা—এমনটাই অভিযোগ সৌরভের। সেই মন্তব্যগুলিকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তিনি লালবাজারে পাঠানো চিঠিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার সেলের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে করা মন্তব্যগুলির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। যুবভারতীকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের পারদ চড়াল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.