লেজের ডগায় যেন আস্ত ‘মাকড়সা’! বিরল ভাইপার সাপের রহস্যভেদে চমকপ্রদ তথ্য গবেষণায়

লেজের ডগায় যেন ছোট্ট একটি মাকড়সা! এক ঝলক দেখলে সত্যিই মনে হতে পারে, সাপটির লেজের শেষে কোনও মাকড়সা বসে রয়েছে। কিন্তু আসলে সেটি মাকড়সা নয়, বিষধর স্পাইডার-টেলড হর্ন ভাইপার-এর লেজেরই বিশেষ অংশ। ভাইপার গোত্রের এই অত্যন্ত বিরল প্রজাতির সাপের লেজের এমন অদ্ভুত গঠন দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয়। সম্প্রতি গবেষণায় সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে।

কোথায় দেখা যায় এই সাপ?
স্পাইডার-টেলড হর্ন ভাইপার মূলত পশ্চিম ইরান এবং সংলগ্ন পাহাড়ি ও মরু এলাকায় পাওয়া যায়। ১৯৬৮ সালে প্রথম এই সাপের সন্ধান মিলেছিল। তবে তখন লেজের অস্বাভাবিক গঠনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং কারও কারও ধারণা ছিল, লেজে হয়তো কোনও টিউমার হয়েছে কিংবা পরজীবী বাসা বেঁধেছে। পরবর্তী সময়ে আরও নমুনা পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ে। ২০০৩ সালে পাওয়া একটি নমুনার লেজেও একই ধরনের ‘মাকড়সা’-সদৃশ অংশ দেখা যায়। অবশেষে ২০০৬ সালে এটিকে স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এক্স-রে স্ক্যানে মিলল চমকপ্রদ তথ্য
সম্প্রতি সাপটির অদ্ভুত লেজের রহস্য বুঝতে গবেষণা করেন শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের নেগাউনি ইন্টিগ্রেটিভ রিসার্চ সেন্টারের সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ সারা রুয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য অ্যানাটমিক্যাল রেকর্ড’ জার্নালে। উন্নত প্রযুক্তির এক্স-রে ব্যবহার করে সাপটির লেজের ডগা পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। তাঁদের ধারণা ছিল, লেজের অস্বাভাবিক বাইরের গঠনের সঙ্গে ভিতরের কঙ্কালেরও কোনও বিশেষ সম্পর্ক থাকতে পারে।

কিন্তু স্ক্যানে দেখা যায় সম্পূর্ণ অন্য ছবি। লেজের কশেরুকাগুলি অস্বাভাবিক নয়। অন্যান্য ভাইপারের মতোই সেগুলির গঠন স্বাভাবিক। অর্থাৎ, সাপটির ‘মাকড়সা-লেজ’-এর রহস্য কঙ্কালের মধ্যে লুকিয়ে নেই। গবেষণায় আরও দেখা যায়, লেজের একেবারে শেষের ওই মাকড়সার মতো অংশে কোনও হাড় নেই। তার বদলে রয়েছে লম্বাটে কিছু আঁশ। অর্থাৎ, বাইরে থেকে যতটা অদ্ভুত দেখায়, ভিতরের কঙ্কাল ততটাই সাধারণ।

শিকার ধরতেই ‘মাকড়সা’ সেজে থাকে লেজ
এই অদ্ভুত লেজের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিকারি ভূমিকা। সাপটি লেজের ডগার মাকড়সার মতো অংশ নাড়িয়ে শিকারি পাখিদের আকৃষ্ট করে। পাখি সেটিকে আসল মাকড়সা ভেবে ধরতে এগিয়ে এলেই সুযোগ বুঝে আক্রমণ করে ভাইপার।বিবর্তনীয় জীববিদ্যার গবেষকদের মতে, এই আচরণের শিকড় সম্ভবত সাপটির পূর্বপুরুষদের মধ্যেই ছিল। সময়ের সঙ্গে বিবর্তনের ফলে লেজের নড়াচড়া এবং তার বিশেষ গঠন আরও উন্নত হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

জীবাশ্ম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
এই গবেষণা শুধু একটি বিরল সাপের লেজের রহস্যই উন্মোচন করেনি, জীবাশ্মবিদ্যার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। গবেষকদের মতে, কোনও প্রাণীর শুধু কঙ্কাল বা জীবাশ্ম দেখলে তার সম্পূর্ণ বাহ্যিক চেহারা সম্পর্কে সবসময় ধারণা করা সম্ভব নয়।

কারণ স্পাইডার-টেলড হর্ন ভাইপারের ক্ষেত্রে লেজের সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্যটির সঙ্গে কঙ্কালের তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। ফলে ভবিষ্যতে কোনও প্রাণীর শুধু জীবাশ্ম পাওয়া গেলে তার প্রকৃত বাহ্যিক চেহারা কেমন ছিল, তা অনেক ক্ষেত্রেই অনুমান করা কঠিন হতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক