মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলতে নামতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। বুধবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর প্রথম ম্যাচে জর্ডনের ক্লাব আল হুসেনের মুখোমুখি হবে লাল-হলুদ। তবে ম্যাচের আগে জর্ডনের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কারণ, যে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হওয়ার কথা, তার আশপাশেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। কিছুদিন আগেই সেখানকার একটি মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল হামলা হয়েছে।
জর্ডনের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়াম থেকেই প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে মুয়াফফর সলটি এয়ার বেস। গত সপ্তাহে ওই মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে মাঝরাতে ইরান প্রায় ২০টি মিসাইল ছোড়ে বলে জানা গিয়েছে। জর্ডনের সেনাবাহিনী ১৮টি মিসাইল প্রতিহত করলেও দু’টি মিসাইল ঘাঁটিতে আঘাত হানে।
এই সেনাঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, এখান থেকেই ইরান ও হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত লারাক দ্বীপকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে আমেরিকা। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার তীব্রতা বেড়েছে।
শুধু এই ঘাঁটিই নয়, আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে কিং আবদুল্লা স্পেশাল অপারেশন ট্রেনিং সেন্টার। সেখানে জর্ডনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন সেনার যৌথ মহড়া হয়। এখনও পর্যন্ত ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইরানের হামলার খবর নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় সামরিক স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন রয়েছে।
মার্চ মাস থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানও পালটা হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিও ইরানের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জর্ডনের উপরেও।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইস্টবেঙ্গল বনাম আল হুসেন ম্যাচ বাতিল বা স্থগিত করার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবারই মাঠে নামার কথা দুই দলের। ফুটবলারদের নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই পরিস্থিতিতে। ম্যাচ ঘিরে জর্ডনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তাই বিশেষ নজরে রয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.