যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা শুধু ক্রীড়াজগত নয়, নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলা। বহু মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করেও প্রিয় ফুটবল তারকাকে এক ঝলক দেখার সুযোগ পাননি। সেই হতাশা, ক্ষোভ ও রাগ ধীরে ধীরে গিয়ে পড়েছিল একাধিক পরিচিত মুখের উপর, যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
মেসির সঙ্গে হোটেল হায়াতে তোলা শুভশ্রীর একটি ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র ট্রোল। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ মানুষ যেখানে মাঠে ঢুকেও মেসিকে দেখতে পেলেন না, সেখানে শুভশ্রী কীভাবে তাঁর একদম পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক, কটাক্ষ ও কুৎসার ঝড়।
এই পরিস্থিতিতে প্রথমে প্রতিবাদে সরব হন শুভশ্রীর স্বামী ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। তিনি প্রকাশ্যে অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ান এবং পরবর্তীতে থানায় গিয়ে এফআইআরও দায়ের করেন। শুভশ্রীর সমর্থনে কথা বলেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর মতো তারকারাও। তবে এত কিছুর পরও ট্রোল থামেনি।
অবশেষে সোমবার একটি ভিডিও বার্তায় নিজেই মুখ খুললেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, G.O.A.T ইভেন্টে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তিনি হায়াতে উপস্থিত হন। বাংলা চলচ্চিত্র জগত থেকে তিনি ও পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির কথাও জানানো হয়েছিল।
শুভশ্রী বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছিল মেসি সবার সঙ্গে দেখা করবেন এবং ছবি তুলবেন। সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি হায়াতে পৌঁছন এবং রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে মেসির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সেই সময়ই ছবি তোলা হয়। পরে পিআর টিমের অনুরোধে তিনি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যান, কারণ সেখানে তাঁর উপস্থিতি থাকলে আয়োজকদের সুবিধা হবে বলে জানানো হয়।
অভিনেত্রীর দাবি, যুবভারতীতে তাঁদের জন্য আলাদা একটি তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে বহু অতিথি অপেক্ষা করছিলেন। তবে মেসি মাঠে ঢোকার সময় যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তাতে শুভশ্রী নিজেও তাঁবু থেকে তাঁকে দেখতে পাননি। তাঁর কথায়, ম্যানেজমেন্টের গাফিলতিতেই একটি সুন্দর অনুষ্ঠান নষ্ট হয়ে যায়।
ছবি পোস্ট হওয়া নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন শুভশ্রী। তিনি জানান, নেটওয়ার্ক ও জ্যামারের সমস্যার কারণে ছবি তাৎক্ষণিকভাবে পোস্ট হয়নি। পরে প্রযুক্তিগত কারণে দেরিতে পোস্ট হয়, যা ততক্ষণে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন যে ভুল সময় ছবি পোস্ট হওয়াটা তাঁর দোষ হতে পারে, তবে সেটার জন্য যে ধরনের আক্রমণ তিনি সহ্য করেছেন, তা অমানবিক।
ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন—তিনি কি কারও ভিউ ব্লক করেছিলেন? মাঠে কি কোথাও তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন? শুধুমাত্র আমন্ত্রণ পেয়ে ছবি তোলাটাই কি অপরাধ? তিনি আরও বলেন, তাঁকে একজন নারী এবং বাংলা ছবির অভিনেত্রী বলেই টার্গেট করা হচ্ছে। একই অনুষ্ঠানে বলিউডের তারকা ও রাজনীতিবিদরা উপস্থিত থাকলেও কেবল তাঁকেই আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে।
আরও পড়ুন
Nusrat-Yash: বিয়ের মরশুমে সবুজ আনারকলিতে রাজকীয় নুসরত, ক্যাজুয়াল যশের সঙ্গে ভাইরাল ছবি
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন শুভশ্রী জানান, তাঁকে গালাগাল দেওয়া পর্যন্ত তিনি চুপ ছিলেন। কিন্তু যখন তাঁর দুই সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু হয়, তখন আর নীরব থাকতে পারেননি। একজন মা হিসেবে তিনি স্পষ্ট করে অনুরোধ জানান—এই ঘটনায় নির্দোষ শিশুদের টেনে না আনার জন্য।
মেসি-কাণ্ড ঘিরে যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে, শুভশ্রী স্বীকার করেছেন সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা। তবে তাঁর বক্তব্য, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকজনের উপর অন্যায় করা কখনওই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোল সংস্কৃতি ও নারী বিদ্বেষের নগ্ন চেহারা আবারও সামনে এল—এমনটাই মনে করছেন বহু মানুষ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.